সুন্দরবন সুরক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও বনজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন রূপান্তরের কর্মশালা
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে বনজীবীদের (সুন্দরবনের স্থানীয় বাসিন্দা ও সম্পদ আহরণকারী) দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় মোংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর এর আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে প্রতি মিনিটে গড়ে ১০ লাখেরও বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অপচনশীল এসব পলিথিন ও প্লাস্টিক পরিবেশে ৪০০ থেকে প্রায় ১০০০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এটি মানুষের জীবন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য নীরব ঘাতক হিসেবে বিবেচিত।
সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ইকোসিস্টেমে প্লাস্টিক দূষণ বন্যপ্রাণী, মাছ, পাখি ও উদ্ভিদের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন মোংলা ইয়ুথ ফোরামের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন মোংলা ইয়ুথ ফোরামের কোষাধ্যক্ষ টুম্পা গুপ্ত। বক্তব্য রাখেন মোংলা ইয়ুথ ফোরামের সদস্য ইরানি বিশ্বাস, জেলা সমন্বয়কারী খন্দকার জিলানী হোসেনসহ সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প, রূপান্তর এবং বনজীবী প্রতিনিধিবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। এজন্য সচেতনতা প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে, বিকল্প ব্যাগ-বস্তা (যেমন পাটের সোনালি ব্যাগ) তৈরি ও ব্যবহার বাড়াতে হবে। বাজার কমিটি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্লাস্টিক-পলিথিন নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণসহ বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ধরনের কর্মশালা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।











