ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২৬ - ৪:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

সুন্দরবন দস্যুমুক্তসহ বিষ প্রয়োগ বন্ধ, বৃক্ষ রোপণ এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে কাজ করা হবে: বন প্রতিমন্ত্রী

  • আপডেট: Sunday, February 22, 2026 - 10:23 pm

মোংলা, বাগেরহাট প্রতিনিধি।। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আমার মন্ত্রণালয় থেকে যে সকল কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত হাতে নেয়া হবে। একইসঙ্গে বাস্তবায়নও করা হবে।ইতিমধ্যে বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ, সুন্দরবন সুরক্ষায় দস্যুতা দমন ও বিষ প্রয়োগ বন্ধ করা। এই প্রতিবেদককে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তার এসব কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, প্রথমতঃ যেটি করবো সেটি হলো-আমরা দেশবাসীর কাছে কমিটমেন্ট করেছিলাম, বিএনপি যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায় তাহলে আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবো। এতে প্রতি বছর আমাদের ৫ কোটি করে গাছ লাগাতে হবে। এ কাজটি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবো। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই বৃক্ষ রোপণের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবো। তারপর কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিবো। সেখান থেকে চুড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালন করবো।

দ্বিতীয়তঃ প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে দেশে বর্তমানে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। ঢাকাসহ বড় বড় শহরে যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে তা ওয়ানটাইম প্লাস্টিক। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে এটি নির্মুল করা হয়েছিল। আবার আস্তে আস্তে এটি ছত্রাকের মত ছড়িয়ে পড়ছে। এটা আমাদের পরিবেশের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। এটি নিয়েও আমরা পরিকল্পনা করছি এবং দ্রুত কাজ শুরু করবো।

তৃতীয়তঃ সুন্দরবন সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছনে পড়ে আছি। দস্যুবৃত্তি প্রচন্ড পরিমাণে বেড়েছে। সম্প্রতি ৫টি বাহিনী প্রতিনিয়ত জেলেদের অপহরণ করছে, মুক্তিপণ নিয়ে ছাড়ছে। এক্ষেত্রে জেলেরা অসহায় হয়ে পড়েছে। জেলেরা ভয়ে সাগরে যেতে চাচ্ছেনা। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বৈঠক করবো।

এছাড়া বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে, যেটা ভয়ানক ক্ষতিকর। আমরা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার সকল বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বসবো। চেষ্টা করবো যাতে আমরা বিষ প্রয়োগটা বন্ধ করতে পারি। বিষে টোটাল মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আমিষের চাহিদার ঘাটতি হবে বিষের কারণে।

পরিশেষে বলবো আমাকে যে যে মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা আমি যথাযথভাবে পালন করবো। আশা করি আমার দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে দেশ ও মানুষ উপকৃত হবে।

লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম আরো দুইটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছেন। তা হলো আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারী বাগেরহাট-০৩ আসন (মোংলা-রামপাল) থেকে বিপুল ভোটে জামায়াত প্রার্থীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৫/১৬ বছর ধরে মোংলা-রামপালের মাটি ও মানুষের সাথে মিশে ছিলেন। যার ফলে এখানকার মানুষ তাকেই বেছে নেন। টানা ৩৫ বছর এ আসন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ৩৫ বছর পর আওয়ামী লীগের এই দুর্গ দখল করে নিলো বিএনপির লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। তবে এ আসনে তার জয়ের পিছনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তার ব্যক্তি পরিচয়ও ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অর্থাৎ দলীয় প্রতীক ও ব্যক্তি ইমেজ দুইটিতেই জয় হয়েছে তার।