ঢাকা | এপ্রিল ১১, ২০২৬ - ১০:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সংস্কার বিষয়ে বিএনপির অবস্থানে জাতি আশাহত: ইসলামী আন্দোলন

  • আপডেট: Saturday, April 11, 2026 - 8:45 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশ সংস্কারের অভূতপূর্ব একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিলো। সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতি নিরপেক্ষ, স্বকীয় ও শক্তিশালীরূপে গড়ে তোলার প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছিলো এবং অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে অনেকগুলো আকাঙ্ক্ষিত সংস্কারকে একধরণের আইনি বাধ্যবাধকতায় নিয়ে এসেছিলো।

তিনি বলেন, রক্তস্নাত পথ পাড়ি দিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কাছে প্রত্যাশা ছিলো যে, জনগণের আকাঙ্ক্ষিত সংস্কারকল্পে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন করাসহ বাকি থাকা সংস্কারেও আইন উত্থাপন করা হবে। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশেনে বিএনপি যা করলো তাতে জাতি আশাহত হয়েছে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধূলিসাৎ হয়েছে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এসব মন্তব্য করেন। হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এই সরকার গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশের অনুমোদন কার্যকারিতা হারিয়ে যেতে দিয়েছে। এছাড়াও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত তিনটি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত তিনটি এবং সংসদ সচিবালয়সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ (মোট ৭টি অধ্যাদেশ) রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে এগুলোই ছিলো তাৎপর্যপূর্ণ যা স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙ্গে দিতে পারতো এবং স্বৈরতন্ত্রকে চিরতরে বিলোপ করার পথে বাংলাদেশেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো। বিএনপি সরকার এই গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে পতিত আওয়ামী লীগের পথেই হাটলো। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, আমরা এখনো বিএনপির প্রতি সুধারণা পোষণ করতে চাই। তাই বলবো, যেসব বিষয়ে অধ্যাদেশ লোপ করা হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে সেসব বিষয়ে আগামী অধিবেশনেই আপনাদের অঙ্গিকারমতে আরো সুসংহত আইন ও বিল উত্থাপন করুন। অন্যথায় জনতা নিজ থেকেই দাবি আদায় করে নেবে।