ঢাকা | জানুয়ারী ৯, ২০২৬ - ৫:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

শান্তিপ্রিয় পার্বত্য অঞ্চল গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

  • আপডেট: Tuesday, January 6, 2026 - 6:54 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে পথসভা করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ পথসভায় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য, শান্তি এবং সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াইচিং মং চাক। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। একটি ঐক্যবদ্ধ পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তুলতে পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাহাড়ে নানা বর্ণ ও ধর্মের মানুষের বসবাস, আর এই অঞ্চলের মানুষ শান্তিপ্রিয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্ন সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ঝনঝনানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এসব বিচ্ছিন্নবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।
থোয়াইচিং মং চাক আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এখানকার সব জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের নাগরিক। এ অঞ্চলে বসবাসরত ১৪টি জাতিসত্তার মধ্যে প্রকৃত শান্তি ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠী অবহেলিত ও বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকার পাহাড়ের মানুষের সমস্যা যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয়নি। পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি ও অ-বাঙালি সবার ক্ষেত্রে সমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরি।
পথসভায় পার্বত্য তিন জেলায় সংসদীয় আসন বৃদ্ধি করার দাবিও জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব বাড়লে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন সুবিধা সব জাতিগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বেকারত্ব দূরীকরণকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য অতি জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরতে হবে এবং সেগুলো মূলধারার গণমাধ্যমে তুলে ধরা জরুরি। তা না হলে পাহাড়ের বঞ্চনা ও অনাস্থা দূর হবে না। তবে সবাই মিলে জোরালোভাবে দাবি উত্থাপন করতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও বৈষম্য দূর হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।