ঢাকা | এপ্রিল ৯, ২০২৬ - ৮:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লামার ফাইতংয়ে ইটভাটার ধ্বংসযজ্ঞ: বিপন্ন প্রকৃতি, অতিষ্ঠ জনজীবন

  • আপডেট: Thursday, April 9, 2026 - 6:35 pm

মো. কামরুজ্জামান, লামা (বান্দরবান)।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড় কাটা, কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়া আর সড়কের ধুলোয় অন্ধকার হয়ে আছে চারদিকের পরিবেশ। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী ব্রিকফিল্ড সিন্ডিকেট। তাদের লাগামহীন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে দূষিত হচ্ছে বায়ু, যার ফলে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

বিগত ২০-২৫ বছর ধরে চলা এই ধ্বংসযজ্ঞ যেন এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা বারবার প্রতিবাদ জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ কাজে আসছে না। অভিজ্ঞ মহলের দাবি, এখনই এই বিনাশী কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে না ধরলে অচিরেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে পুরো ফাইতং ইউনিয়ন।

 

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ফাইতং ইউনিয়নে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে ৩১টি ইটভাটা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিগত এক বছরে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রায় ২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় এবং ৮৫টি মামলায় জেল-জরিমানাসহ ৭টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

তবে এই সিন্ডিকেট এতটাই বেপরোয়া যে, গত কয়েক মাস আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা থেকে আসা ম্যাজিস্ট্রেট ও যৌথ বাহিনীর অভিযানেও তারা বাধা দেয়। ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও শ্রমিকদের দিয়ে অভিযানিক দলের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়। সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কায় সে সময় পিছু হটতে বাধ্য হয় যৌথ বাহিনী।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ফাইতংয়ের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সীমিত এলাকায় গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে ৯টি ইটভাটা। শিবাতলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় জনবসতির একদম পাশেই এগুলোর অবস্থান। ভাটাগুলোর মালিকানায় রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, যাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও উচ্চ পর্যায়ে লবিং করে কাজ চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

 

সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ও আধাপাকা সড়কগুলো ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমিতে ফসল হচ্ছে না, গাছপালা ও ফলমূলের ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে গিয়ে এক ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, আমি যোগদানের এক বছরের মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশনায় ফাইতংয়ে ৭টি ইটভাটা ভেঙে দিয়েছি। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ অভিযান চালিয়ে ৮৫টি মামলা ও প্রায় দুই কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

 

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাধারণ অভিযানে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে থামানো সম্ভব নয়। পরিবেশ রক্ষায় সেনাবাহিনীর সরাসরি তদারকিতে বড় ধরনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলেই কেবল এই ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে।