রোগীর মৃত্যুর পর ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ, আটক ২
ঢামেক সংবাদদাতা।। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর পর তার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনেরা চিকিৎসকদের মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পর বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত তিন ঘণ্টার বেশি সময় জরুরি বিভাগের ফটক আটকে চিকিৎসা বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়।
মারা যাওয়া ওই রোগীর নাম রাশি বেগম, বয়স ৩৩ বছর। লালবাগের আজিমপুরে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।
রোগীর সৎ ছেলে ইমতিয়াজ বলেন, তার মাকে লিভারের সমস্যায় মেডিসিন বিভাগের ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ইমতিয়াজ বলেন, “স্যালাইনের সাথে ইনজেকশন পুশ করার কথা ছিল। সেখানে তা না করে সরাসরি শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। ফলে কিছু সময়ে মধ্যে তিনি মারা যান।”
এ নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে সেখানে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মিলে রোগীর স্বজনদের ধাওয়া করলে, তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার দাবিতে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের মেইন গেইট বন্ধ করে দেন। তাতে রোগী আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ভোর সাড়ে ৪টা থেকে পুনরায় চিকিৎসা সেবা চালু হয়।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক শিহাব বলেন, মৃত রোগীর স্বজনরা ডা. তৌহিদ, ডা. রাহাত, ডা. বাপ্পি ও ডা. নাঈমকে ‘মারধর’ করে। পরে তাদের হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। পরে হাসপাতালে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয় বলে জানান শিহাব।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, “রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে দুজনকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হাসপাতালে র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”











