ঢাকা | মার্চ ২৯, ২০২৬ - ১০:৪৯ অপরাহ্ন

মোংলায় কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে সাড়ে ১২ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

  • আপডেট: Sunday, March 29, 2026 - 9:10 pm

মোংলা বাগেরহাট প্রতিনিধি।। মোংলার বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের জন্য হাহাকার চললেও অসাধু ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি ডিপো মালিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জ্বালানি তেল মজুত করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দিগরাজের একটি তেল ডিপো থেকে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দৈনন্দিন ব্যবহৃত পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের জন্য হাহাকার চলছে। কিছু কিছু সরকারি-বেসরকারি মালিক ও কর্মকর্তা এ সকল পণ্য মজুত করে মোটা অংকের টাকা মুনাফা করছে বলেও বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে। এরই মধ্যে মোংলা উপজেলার কয়েকটি ব্যবসায়ীর ডিপো ও তেল সরবরাহ প্রতিষ্ঠানে অভিযানও চালানো হয়েছে এবং জরিমানাও করা হয়েছে।”

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই এবং বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত ‘যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালীন ওই প্রতিষ্ঠানের ৩টি তেলের ট্যাংকে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। সরেজমিনে পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে নথিপত্র বিহীন মজুতকৃত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত ডিজেল পাওয়া গেলে তা জব্দ করা হয়।

অভিযানকারীরা জানান, জব্দকৃত এই ডিজেলের বাজার মূল্য প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা। কেন নথিপত্র ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে মজুতকৃত তেলের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিভাগ) তত্ত্বাবধানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন আরও বলেন, “মোংলা বন্দর ও এর আশপাশ এলাকা সহ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”