ঢাকা | জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ - ৬:০৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বেগম খালেদা জিয়া একদিনের জন্যও আপোষ করেননি – আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

  • আপডেট: Saturday, January 17, 2026 - 4:36 pm

চট্টগ্রাম ব্যুরো।।

চট্টগ্রাম-১১ নির্বাচনী আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিন থেকে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন। অন্যান্য নেতারা যখন বিভিন্ন সময়ে সমঝোতা করেছে, আপোষ করেছে, এই একজন নেত্রী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একদিনের জন্যও আপোষ করেননি। পরবর্তীতে ওয়ান ইলেভেনেও একই অবস্থা ছিল। ওয়ান ইলেভেনে আমরা দেখেছি শেখ হাসিনা আপোষ করে ক্ষমতায় এসেছে। তখন অন্যান্য দল, যারা এখন আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, তারাও কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের পক্ষে কথা বলেছে। তারাও কিন্তু এরশাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে এরশাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে আমাদের নেত্রী যখন আন্দোলন করেছেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি একদিনের জন্যও আপোষ করেননি। তখনও আমরা দেখেছি, কোন কোন দল যারা আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা এক পা এগিয়েছে, দুই পা পিছিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় এদেরকে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র একজন নেত্রী এক ঘণ্টার জন্যও আপোষ করেননি।

১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) সন্ধ্যায় নগরীর পোর্ট রিপাবলিক ক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনের আওতাধীন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ধানের শীষের সমর্থনে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত “দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভা”-য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা রাস্তায় নেমেছি, আমরা বারবার জেলে গিয়েছি, আমরা পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা গুম হয়েছে, খুন হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। আমরা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছে, জেলখানায় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। আমাদের কর্মীরা ধান খেতে থেকেছে, পালিয়ে বেড়িবাঁধে থেকেছে। আমাদের নেতাকর্মীরা চাকরি হারিয়েছে, ব্যবসা হারিয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাহসে আমরা সাহসী হয়েছি, বলিয়ান হয়েছি। আমাদের নেত্রীর সাহস ও আপোষহীনতার কারণেই আমরা আজকে এই জায়গায় এসেছি। আমাদের নেত্রীর ত্যাগ এবং আমাদের ত্যাগের ফসল হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এই ফসল হচ্ছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পূর্ণপ্রতিষ্ঠা করা এবং বাংলাদেশের মানুষের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমির খসরু বলেন, “যেভাবে আমরা হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি, মৃত্যুবরণ করেছি, গুম হয়েছি, খুন হয়েছি। আমাদের নেত্রী আপোষ করেননি। জেলখানায় থেকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গিয়েছেন। আমাদের এখন থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত সেই ত্যাগ অব্যাহত রাখতে হবে।”

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসরাফিল খসরু বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান, উই হ্যাভ এ প্ল্যান’। আমাদের নেতার প্ল্যান হচ্ছে ৩১ দফা। এটি দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।”

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে মানুষের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া, সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, শাহাদাত হোসেন সোহাগ, মো. মোখলেছুর রহমান, রাসেল খান, ইমরান চৌধুরী বাবলু, রবিউল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম ও মো. ইসকান্দার।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন রাজু, ইপিজেড থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইউসুফ সুমনসহ প্রমুখ।

মতবিনিময় সভা শেষে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কলসী দিঘির পাড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. জাহাঙ্গীর আলম।