ঢাকা | এপ্রিল ৮, ২০২৫ - ৫:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন ৫০ দেশের বিনিয়োগকারীরা

  • আপডেট: Sunday, April 6, 2025 - 6:20 pm
নিজস্ব প্রতিবেদক।। দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকায় আজ রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। এতে বিশ্বের ৫০টি দেশের ৫৫০ জনের বেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। এ জন্য সরাসরি বিনিয়োগ করবেন এমন বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিশ্বের নামীদামি বেশ কিছু কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী কিংবা প্রতিনিধিরাও নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম দুজন হলেন কাপড়ের ব্র্যান্ড জারার মূল সংস্থা ইন্ডিটেক্সের গ্রুপ সিইও বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অস্কার গার্সিয়া মাসেইরাস ও দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলাইমান।
‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২৫’ শীর্ষক এ বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এ সম্মেলন আগামী বুধবার পর্যন্ত চলবে।
বিডার তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে থাকবেন যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন, বহুজাতিক কোম্পানি স্যামসাংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাং-জু লি, কাপড়ের ব্র্যান্ড জিওর্ডানো ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কলিন মেলভিল কেনেডি কারি। এ ছাড়া এক্সিলারেট এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের দাউদ গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এসব ব্যক্তির পাশাপাশি আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিডা জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, উবার, টেলিনর ও টয়োটার মতো অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এ ছাড়া বিশ্বের বেশ কিছু বড় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিও আসছে সম্মেলনে। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বি-ক্যাপিটাল, মালয়েশিয়া ও হংকংভিত্তিক গোবি পার্টনার্স, কনজাংশন ক্যাপিটাল ও মার্কোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে।
সম্মেলনে যোগ দেওয়া বড় ব্যবসা খাতের বিনিয়োগকারীদের নিয়ে ঢাকার বাইরে একাধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করা হবে। সম্মেলনের প্রথম দিনে আগামীকাল সোমবার বিনিয়োগকারীদের চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেড ও মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড) পরিদর্শন করানো হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।
কারখানার জন্য যাঁদের জমি প্রয়োজন, মূলত তাঁদেরই অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে নেওয়া হবে। সম্মেলনে দেশি–বিদেশি সেরা বিনিয়োগকারীদের মোট পাঁচটি শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করে আসছেন, এমন একজন বিদেশি ব্যবসায়ীকে সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হবে। পাশাপাশি একই সময়ে স্টার্টআপ ও বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন নিয়ে নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে বিনিয়োগ সম্মেলনের আগে গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশকে নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একধরনের নেতিবাচক চিন্তা রয়েছে। তাই এ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার একটি সুযোগ পাব। এ ছাড়া ৫ থেকে ১০ বছর পর বিনিয়োগে বাংলাদেশে কী ধরনের সুবিধা থাকবে, সেই বার্তা দিতে চাই দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের। তাঁরা সশরীর এসে সেই বাস্তবতা ও নতুন বিনিয়োগে বাংলাদেশের অবস্থান উপলব্ধি করার সুযোগ পাবেন। এ আয়োজন বিনিয়োগকারী, দেশি–বিদেশি ব্যবসায়ী এবং সরকারি–বেসরকারি কর্মকর্তাদের একই ছাদের নিচে নিয়ে আসবে।’
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বিনিয়োগ সম্মেলনের কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিষয়টিকে সুযোগ হিসেবেই দেখছি। বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) প্রতিবেদনে দেশের ব্যবসার নিয়মনীতি, কাস্টমস ডিউটি, দুর্নীতি ও আইটি রাইটসের মতো বিষয়ে কিছু প্রাথমিক সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সংস্কার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনায়ও রয়েছে। এ বিষয়গুলো সমাধান হয়ে গেলে বিনিয়োগ পরিবেশের অনেক উন্নতি হবে। তাই পাল্টা শুল্ক ও বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের সংস্কার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি চাপ বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক।’
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক বাড়ায়নি, প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপরও এটি আরোপ করেছে। আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো এবং আমরা সবাই একই নৌকায় আছি। পাল্টা শুল্কের বিষয়ে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো যেদিকে হাঁটবে, আমরাও সেদিকে এগোব। বিনিয়োগ সম্মেলনে মার্কিন মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) সঙ্গে একটি বেসামরিক চুক্তি হতে পারে। এ ছাড়া শ্রম আইন নিয়ে আইএলওর সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হবে।’
নতুন বিনিয়োগকারীদের জ্বালানিসংকট বিষয়ে সাংবাদিকেদের এক প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য–ঘাটতি নিয়ে কথা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল জ্বালানি রপ্তানি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জ্বালানি রপ্তানি শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর থেকে আমাদের নির্ভরশীলতা কিছুটা কমবে। ফলে দেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে জ্বালানির ঘাটতি কিছুটা কমবে।’
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর।