ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৬ - ৪:২৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বাঘাইছড়িতে ভালো ফলন, তবুও শঙ্কায় তরমুজ চাষিরা

  • আপডেট: Tuesday, February 24, 2026 - 7:28 pm

বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় চলতি মৌসুমে নানা জাতের তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার উগলছড়ি বিল ও কচুছড়ি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে স্থানীয় কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে ব্যাপক আকারে তরমুজ চাষের পাশাপাশি বিদেশি শাম্মাম ও বাঙ্গি চাষ করেছেন। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
চাষিদের অভিযোগ, তরমুজ চাষে বারবার চেষ্টা করেও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ পাননি। ফলে রোগবালাই দমন ও সেচ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চোরের উৎপাত। জমিতে ফলন আসার পর থেকে রাত জেগে তরমুজ পাহারা দিতে হচ্ছে। এতে শ্রম ও নিরাপত্তা ব্যয়ও বেড়েছে।
বিক্রেতাদের দাবি, রমজান মাসে স্থানীয় বাজারে তরমুজের চাহিদা থাকলেও দাম তুলনামূলকভাবে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। বড় আকারের প্রতিটি তরমুজ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মাঝারি ও ছোট আকারের তরমুজ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় হাটের তরমুজ ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা শহর থেকে তরমুজ নিয়ে আসতাম, কিন্তু শহরে কেজি ধরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। তার থেকে আমাদের এলাকার তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়। তাই স্থানীয় তরমুজ দিয়েই চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নূর আলম জানান, চলতি বছর উপজেলায় আনুমানিক ১৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। গত বছর হয়েছিল ১২ হেক্টর জমিতে। তবে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় কোনো কৃষককে প্রণোদনা বা বীজ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। শুধুমাত্র একজন তরমুজ চাষীকে প্রদর্শনীর জন্য বীজ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
ফলন ভালো হলেও উৎপাদন ব্যয় ও নিরাপত্তা সংকটে লাভের মুখ দেখতে পারছেন না বাঘাইছড়ির তরমুজ চাষিরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।