মঙ্গলবার (আজ) সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গর্ভবতী নারী ইতি বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, নার্সদের অবহেলার কারণেই তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইতি বেগম বলেন, সোমবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রসবব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু এ সময় কর্তব্যরত নার্সরা যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে অবহেলা করেন। চিকিৎসা চাইলে তারা বলেন, “এখন ঘুমের সময়, চিকিৎসার সময় না। যা হবে সকালে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাতে কোনো ডাক্তার ছিলেন না। যদি নার্সরা একটু যত্ন নিতেন, সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতেন, তাহলে আজ আমার সন্তান মারা যেত না। আমি এই ঘটনার কঠোর বিচার চাই।”
গর্ভবতী নারীর স্বামী মোহাম্মদ সাব্বির অভিযোগ করে বলেন, “এই হাসপাতালে কোনো নার্সেরই সেবা ভালো না। রোগীদের সঙ্গে তারা খারাপ ব্যবহার করে, ধমক দিয়ে কথা বলে। আজ নার্সদের অবহেলার কারণেই আমি আমার সন্তান হারিয়েছি। ভবিষ্যতে যেন আর কেউ সন্তান না হারায়—সে জন্য নার্স শিরিন ও শিপ্রা রানী মালাকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স শিরিন আক্তার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” অপর অভিযুক্ত নার্স শিপ্রা রানী মালাকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, “আমি অফিসে আসার আগেই ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।