ঢাকা | জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ - ২:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বরিশালে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে

  • আপডেট: Tuesday, January 13, 2026 - 12:27 pm

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি।। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশালে জামায়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে। এমনকি দলটির ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিও ছাড়তে হচ্ছে। বিজয়ের ক্ষেত্রে দলটির এ গ্রেডের তালিকায় ছিল আসনটি। পাশাপাশি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিও জামায়াতের এ গ্রেডের তালিকায় ছিল। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে আসনটি আগেই ছেড়ে দিয়েছিল দলটি, যে কারণে এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বরিশাল মহানগর দলের আমির জহির উদ্দীন বাবর প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

 

এদিকে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটিও জামায়াতের এ গ্রেডের তালিকায় রয়েছে। এ দুটি আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

এদিকে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বরিশাল-৫ আসন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে তার দেনদরবার চলছে। এ আসনে তার মনোনয়ন নিশ্চিত হলে জামায়াতকে ৬ আসনটি ছেড়ে দিতে পারেন বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, সদর আসনটিতে প্রার্থী হয়েছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এখানে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে আসছেন।

জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পাড়ায়-মহল্লায় তাদের হাজার হাজার সক্রিয় কর্মী-সমর্থক রয়েছে। ইতোমধ্যেই দলের নির্বাচনি কেন্দ্র পাহারা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের কারণে এ আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছেড়ে দিতে হবে বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গত রোববার সকাল থেকেই নগরীতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর আসনটি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২০ জানুয়ারির আগেই জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জানা যায়, সমঝোতার অংশ হিসেবেই জামায়াত সম্প্রতি তাদের সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। এতে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমকে আহ্বায়ক এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলালকে।

দলীয় সূত্র জানায়, সাধারণত সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা নির্বাচনে প্রার্থী থাকেন না। সে বিবেচনায় বরিশাল-৫ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পক্ষে জায়গা ছেড়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন মুহাম্মদ বাবর একটি গণমাধ্যমেকে বলেন, জোটের স্বার্থে অনেক কিছুই ছাড় দিতে হয়। শুনেছি এ বিষয়ে দলীয় ঘোষণা আসতে পারে। তবে এখনও নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি হওয়ায় শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।