ইউপিডিএফ দমন ছাড়া পর্যটন নিরাপদ নয়: পিসিসিপি
আহমদ বিলাল, রাঙামাটি প্রতিনিধি।
রাঙামাটির ফুরমোন পাহাড়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা পর্যটকদের হেনস্থা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প ধসে পড়বে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর রাঙামাটি শহরের কাঠালতলী মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখা। মিছিলটি বনরূপা চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পর্যটন বিষয়ক আহ্বায়ক মো. হাবিব আজম বলেন,
“মেঘ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে পাহাড়ে আসা পর্যটকরা আজ আতঙ্ক নিয়ে ফিরছেন। ফুরমোন পাহাড়কে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কার্যত জিম্মি করে রেখেছে। দিনের আলোয় অস্ত্র নিয়ে পর্যটকদের গতিরোধ করা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক।”
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পাহাড়ের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর অবস্থান না নেয়, তাহলে এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সভাপতির বক্তব্যে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বলেন,
ফুরমোন পাহাড়ে মোবাইল ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও নারী পর্যটকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ভয়ে অনেক পর্যটক মুখ না খুললেও জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে অবৈধ আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা হরণ করছে। অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে এসব পর্যটন কেন্দ্র সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে।
যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নূর হোসেন বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণের ভয় দেখানো হচ্ছে। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে পাহাড়ের যুব সমাজ ও পর্যটন খাত দুটোই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
ভুক্তভোগী সুমন বলেন, ফুরমোন পাহাড় থেকে পুরো রাঙামাটি শহর দেখা যায়। অথচ এমন একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকায় অস্ত্রধারীদের অবাধ বিচরণ আমাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
সমাবেশে বক্তারা একযোগে দাবি জানান—রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র অবিলম্বে সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও বিশেষ যৌথ অভিযান জোরদার করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চরম সংকটে পড়বে।











