ঢাকা | এপ্রিল ১২, ২০২৬ - ৪:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

দুঃসংবাদ! ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি: ভ্যান্স

  • আপডেট: Sunday, April 12, 2026 - 8:52 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ মেটানোর প্রচেষ্টা আবারও হোঁচট খেলো। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ শেষে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ।

রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ কথা জানান।

শনিবার বিকেলে ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছিল। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

‘সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ’
সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি এবং অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে—এটা সুসংবাদ। তবে দুঃসংবাদ হলো, আমরা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি।’

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা ইরানকে জানিয়ে দিয়েছে। ভ্যান্সের মতে, ইরান মার্কিন শর্তগুলো মেনে না নেওয়ায় আলোচনা সফল হয়নি।

মূল বিরোধ পারমাণবিক ইস্যু
আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তার নিশ্চয়তা পাওয়া। যদিও তাদের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন কোনো জোরালো প্রতিশ্রুতি আমরা তাদের কাছ থেকে পাইনি।’

ইরানের অবস্থান ও শর্ত
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং চলমান যুদ্ধ অবসানের মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সফলতা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের সদিচ্ছা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেওয়ার ওপর।’

 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বার্তায় বলেন, তার দেশের প্রতিনিধিদল জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকার জনগণের পাশে থাকবে।