তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের স্মারকলিপি
চট্টগ্রাম ব্যুরো।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে অবস্থিত কে আর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে জাহাজ বীচিংকালে সংঘটিত এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে “কাশিয়া” নামক একটি জাহাজ বীচিং করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বীচিং কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ব্যবহৃত দুটি ছোট বোট জাহাজের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এ সময় একটি বোটের সঙ্গে বীচিংরত জাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে বোটটি জাহাজের নিচে তলিয়ে যায় এবং বোটে থাকা দুই শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহতদের একজনের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ওই বোটে আরও দুইজন শ্রমিক ছিলেন, যাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তারা পরবর্তীতে যমুনা টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বীচিংরত জাহাজের প্রপেলারের আঘাতেই তাদের সহকর্মী দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্বীকার না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে আজ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক জনাব মাহাবুবুল হাসানের কাছে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে নিহত শ্রমিকদের মৃত্যুর বিষয়ে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ, দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী Loss of Year Earnings হিসাব করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
রাতের বেলায় ও বৈরি আবহাওয়ায় জাহাজ বীচিং কার্যক্রম বন্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত করা,
বীচিংয়ের সময় জাহাজের প্রপেলার সম্পূর্ণ বন্ধ ও লক করা বাধ্যতামূলক করা,
ছোট বোটে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য লাইফ জ্যাকেট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা,
প্রতিটি বীচিং কার্যক্রমে প্রশিক্ষিত সেফটি অফিসার ও সরকারি পরিদর্শকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা,
আইএলও কনভেনশন, হংকং কনভেনশন ও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা,
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল সংরক্ষণ ও তথ্য গোপন রোধে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে উপ-মহাপরিদর্শক মাহাবুবুল হাসান বলেন, যেকোনো শ্রমিক দুর্ঘটনার বিষয়ে তার দপ্তর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি করছে। তিনি আশ্বাস দেন, উক্ত দুর্ঘটনার বিষয়ে নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু, ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্য মো. আল, বাংলাএশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইদ্রিস, জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।











