জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক।। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় মোহাম্মদ ছরওয়ার আলম নামের বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আটক ছরওয়ার বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার। জামায়াত আমিরের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট ইস্যুতে গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিনগত মধ্যরাতে তাকে আটক করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১২টার পর এ অভিযান শুরু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, জামায়াত ইসলামির আমিরের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাককারীকে ধরতে মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি পুলিশ।
এ বিষয়ে আগে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, একটি অভিযান চলছে। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এদিকে ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাকের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার পর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স আইডি হ্যাকারদের কবলে পড়ে। পরে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই আইডি থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় আইটি টিম দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে আইডিটির পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আইডিটি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে একটি জরুরি ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ওই রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরদিন সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সে সময় হ্যাকিংয়ের উৎস ও পদ্ধতি নিয়েও একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয় বলে জানায় জামায়াত।
দলটির দাবি, তদন্তে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিসিয়াল ই-মেইলসহ একাধিক অফিসিয়াল ঠিকানায় একটি ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফিশিং মেইলটি বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় মঙ্গলবার সরাসরি বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি করে জামায়াত। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











