ঢাকা | জানুয়ারী ১১, ২০২৬ - ৮:১২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

চাঁদা না পেয়ে জামায়াতের কর্মীর দোকানের নগদ অর্থসহ মালামাল লুট 

  • আপডেট: Saturday, January 10, 2026 - 6:49 pm

মো.রিয়াজ (বাউফল)।। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দুর্গম চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এক ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরডিয়ারা কচুয়া গ্রামের জলকপাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার ব্যবসায়ী মো. আবুল হোসেন (৩০) গত এক বছর ধরে ওই এলাকায় মুদি ও জ্বালানি তেলের ব্যবসা করে আসছেন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. সাইদুল (২৭), ছাত্রদলকর্মী মো. জহিরুল ইসলাম সোহাগ (২৭) ও যুবদলকর্মী মো. সোহেল রাঢ়ী (৩৫) মো. আবুল হোসেনের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। মো. আবুল হোসেন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুক্রবার রাতে তাঁদের নেতৃত্বে প্রায় ১৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা মো. আবুল হোসেনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি দোকানের মালামাল তছনছ করে এবং ক্যাশবাক্সে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মো. আবুল হোসেন বলেন, আমার অপরাধ আমি জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করি এবং যুব জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। ওরা আমাকে বলে গেছে জামায়াত করতে হলে চাঁদা দিয়েই ব্যবসা করতে হবে।”
মো. আবুল হোসেন বলেন হামলার সময় ও পরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করতেই এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শান্ত এলাকা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইদুল ও সোহেলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জহিরুলের ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. বেল্লাল ব্যাপারী দাবি করে বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি বা এর কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই।”
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, “এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”