ঢাকা | এপ্রিল ১, ২০২৬ - ৩:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চন্দনাইশে ফসলি জমির মাটি পাচার, হুমকিতে খাদ্য উৎপাদন

  • আপডেট: Wednesday, April 1, 2026 - 2:33 pm

নুরুল আলম, চন্দনাইশ প্রতিনিধি।।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কৃষি এলাকা হারলা বিলে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধান ও অন্যান্য শস্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হারলা বিল দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। তবে বর্তমানে মাটি খেকো দুর্বৃত্তদের আগ্রাসনে বিলের উর্বর জমিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বড় খাল সংলগ্ন হারলা অংশের জমিগুলোতে এবার বোরো চাষ হয়নি এবং জমিগুলো খালি পড়ে রয়েছে। বিপরীতে একই বিলের বরমা এলাকার মাইগাতা অংশে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হারলা অংশের এসব পতিত জমি থেকেই মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাত হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে মাটি পাচারকারী চক্র। স্কেভেটর, ট্রাক ও ডাম্পার নিয়ে তারা জমিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং গভীর গর্ত করে মাটি তুলে নেয়। অনেক জায়গায় জমিতে আগুন দিয়ে ন্যাড়া পোড়ানো হচ্ছে, যাতে মাটির সঙ্গে ফসলের অবশিষ্টাংশ না থাকে। ফলে শত শত একর জমি গভীর খাদে পরিণত হয়ে চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

এছাড়া, অনেক জমির মালিক না জানতেই তাদের জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জমির মাটি ক্রয় করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জমি গভীর গর্তে পরিণত হয়ে অনাবাদি হয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, বিলের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে ইসলামাবাদী সড়ক সংলগ্ন মাইগাতা গ্রামে অবস্থিত ABM ও JBM নামের দুটি ইটভাটায় এসব মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে।

মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের কারণে ইসলামাবাদী সড়ক ও হারলা বিলসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ হারলাবাসী ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব হোসেনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

জানা যায়, শুধু হারলা বিল নয়, চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৮টি স্থানে মাটি পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে। সমতল ভূমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল—কোনো জায়গাই তাদের দখল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব হোসেনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের ২৯ ও ৩০ মার্চ মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২৯ মার্চ রাত পৌনে ১১টার দিকে মাটি কাটার খবর পেয়ে তিনি পুলিশ পাঠানোর কথাও জানান। তবে ৩০ মার্চ তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো ফল পায়নি।

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও কর্তৃক পাঠানো থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা ভোর ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় একটি স্কেভেটর আটক করা হলেও রহস্যজনক কারণে তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, নির্বাহী কর্মকর্তা আন্তরিক ও উদ্যোগী হলেও সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা মনে করেন, প্রশাসন সদিচ্ছা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিলে পরিবেশ ও কৃষি বিধ্বংসী এ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।