ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬ - ৯:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চন্দনাইশে গরু চুরি, গুলিতে গৃহকর্তা নিহত

  • আপডেট: Thursday, February 26, 2026 - 7:09 pm

চন্দনাইশ প্রতিনিধি।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার জোয়ারা হিন্দু পাড়ায় গরু চুরির ঘটনায় গুলিতে চন্দন দে (৭০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত ২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত চন্দন দে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া বদুরপাড়া সংলগ্ন পশ্চিম হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষিজীবী ছিলেন। ক্ষেত-খামারের কাজের পাশাপাশি গরু পালন করতেন। তার পিতা মৃত রেবতী রঞ্জন দে।

নিহতের স্ত্রী রুবী দে জানান, ভোর ৪টার দিকে বসতঘরের সঙ্গে সংলগ্ন গোয়ালঘরের তালা কাটার শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে। জানালা খুলে দেখার চেষ্টা করলে এক ব্যক্তি তার দিকে অস্ত্র তাক করে রাখে। তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল ছিল এবং সবার কাছেই অস্ত্র ছিল। তারা একটি ‘হাইচ’ গাড়ি করে আসে এবং সেটি প্রধান সড়কের ওপর রেখে দেয়।

পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু বের করে গাড়িতে তোলার সময় দুটি গরু পালিয়ে যায়। একটি গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তারা প্রধান সড়ক ধরে বদুরপাড়া দিয়ে পালিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়া গরুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা বলে পরিবার জানায়।

পালিয়ে যাওয়া একটি গরুকে দুর্বৃত্তরা আঘাত করে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে যায়। পরে সেটি জবাই করে গোশত বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। অপর একটি গরু উদ্ধার করে বর্তমানে গোয়ালে রাখা হয়েছে।

গোয়ালঘর থেকে গরু বের করার প্রায় ১৫ মিনিট পর গৃহকর্তা চন্দন দে ঘর থেকে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। বন্দুকের ছররা তার বুক ও মুখে লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের ভাই বাদল কান্তি দে পরিবারটির বসবাস ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নিরীহ কৃষক পরিবারের ওপর এ ধরনের হামলায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বদুরপাড়া সড়কে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করলে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।