ঢাকা | জানুয়ারী ৮, ২০২৬ - ৩:০৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পার্টি অফিসে যাওয়া অশনিসংকেত: আসিফ মাহমুদ

  • আপডেট: Tuesday, January 6, 2026 - 7:35 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।।  পাতানো নির্বাচনের প্লট সাজানো হলে রাজপথে নেমে তা মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষাৎ করার বিষয় থাকলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা হয়তো সাক্ষাৎ করতে পারেন। কিন্তু সেটা পার্টি অফিসে যাওয়াটা আমাদের জন্য অশনিসংকেত এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক—এটাও আমরা নিয়মবহির্ভূত বলে মনে করি।

 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এ কথা বলেন।

 

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তফসিলের পরের দিন আমরা দেখেছি যে একজন চিহ্নিত আসামি (ফয়সাল করিম মাসুদ), যিনি জামিনে বের হয়েছিলেন, কিছুদিন আগে তার হাতে আমাদের একজন সহযোদ্ধা (জুলাই বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদি) শহীদ হয়েছেন এবং এর ফলেই কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে শঙ্কাটা মানুষের মনে আরও বেশি তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা সেভাবে দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও নির্বাচনকেন্দ্রিক লক্ষ্য করতে পারছি না। আগে যেরকম ছিল, সেরকমই দেখা যাচ্ছে।

‘আমরা এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকেও এই কনসার্নটা জানিয়েছি যে মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি উপস্থিতি এবং আরও অ্যাকটিভ কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ করতে হবে।

একই সঙ্গে এই যে সন্ত্রাসীরা এখনো খোলামেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের ব্যাপারে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি মানুষের এই কনফিডেন্সটা আবার তারা ফিরিয়ে আনতে চান—যে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে এবং নির্বাচনটা আসলে সঠিক সময়ে হচ্ছে—তাহলে এই কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।’

এনসিপির মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা এখনো দেখতে চাচ্ছি নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সদিচ্ছা। তারা যে পক্ষপাতিত্বমুক্তভাবে কাজ করছেন, এই বিষয়ে তারা আমাদের আস্থা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

তবে অবশ্যই আমরা তাদের কথার মাধ্যমে নয়, তাদের কাজের মাধ্যমেই আমাদের আস্থা ফিরবে কি ফিরবে না, সেটা দেখব। তবে আমরা যদি দেখি যে তারা কোনোভাবে একতরফা কোনো একটি নির্বাচন আয়োজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন—যেটা আমরা ইতঃপূর্বেই শঙ্কা প্রকাশ করেছি—একটি পার্টির রাজনৈতিক অফিসের দিকে আমরা দেখছি যে নিয়মবহির্ভূতভাবে অনেক সরকারি কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা যাওয়া শুরু করেছেন। এই বিষয়গুলো যদি এভাবেই চলতে থাকে এবং আমরা যদি দেখি বাংলাদেশে আরও একটি পাতানো নির্বাচনের প্লট সাজানো হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই তখন আমাদের রাজপথ বেছে নিতে হবে।

মানুষ তার ভোটাধিকার—যেটা বিগত তিনটি নির্বাচনে বঞ্চিত হয়েছে—এবার যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয় সেটা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে নিশ্চিত করার। কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামব।

কোন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান একটি দলের প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা দেখলাম যে এনএসআই প্রধান, তিনি একটি দলের প্রধানের সঙ্গে পার্টি অফিসে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষাৎ করার বিষয় থাকে, সেটা যে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা হয়তো সাক্ষাৎ করতে পারেন। কিন্তু সেটা পার্টি অফিসে যাওয়াটা আমাদের জন্য অশনিসংকেত বলে আমরা মনে করি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক-এটাও আমরা নিয়মবহির্ভূত বলে মনে করি। এটাও এই নির্বাচন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে একটা শঙ্কা তৈরি করছে।

পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির প্রার্থীর (সারজিস আলম) হলফনামা এবং রিটার্নে যে সম্পদের তথ্য বিবরণ আছে, তাতে গরমিল আছে-এমন বিষয় উত্থাপন করা হলে আসিফ মাহমুদ বলেন, আয়কর রিটার্নটা জমা দেওয়া হয় জুন মাসে। ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই ছয় মাসে প্রার্থীর যে আয়টা আছে, সে আয়ের পার্থক্য স্বাভাবিকভাবেই হওয়ার কথা। ছয় মাস আগে আপনার আয় আর আজকের আয় তো এক হওয়ার কথা না। এর আগেও এনসিপির যারা প্রার্থী আছেন, এনসিপির যারা নেতা আছেন, তাদের বিষয়ে নিউজগুলো খুব ফুলিয়ে এবং এটাকে ভিন্নভাবে উত্থাপনের একটা চেষ্টা আমরা দেখেছি।