ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ১০:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ঐতিহ্যের বাগেরহাট: পর্যটনের নতুন দিগন্ত ও তরুণ প্রজন্মের আগামীর কর্মস্থল

  • আপডেট: Sunday, March 8, 2026 - 6:46 pm
পল্লব ঘোষ।। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর প্রাচীন স্থাপত্যের এক অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে পরিচিত আমাদের এই বাগেরহাট। একদিকে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ আর অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন জেলাটিকে পর্যটনের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই দুই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটে গড়ে উঠতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ পর্যটন হাব। বর্তমান সময়ে পর্যটন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয় বরং এটি বাগেরহাটের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
বাগেরহাটের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শনেই সীমাবদ্ধ নয়। খান জাহান আলী (র.) এর মাজার এবং কোদলা মঠের মতো প্রাচীন নিদর্শনের পাশাপাশি সুন্দরবনের করমজল বা হাড়বাড়িয়া পয়েন্ট পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর রাজধানী ঢাকা থেকে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হওয়ায় এখন সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে এই অঞ্চল। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব ইকো ট্যুরিজম এবং ভৈরব ও পশুর নদীকে কেন্দ্র করে রিভার ক্রুজ বা নৌ পর্যটন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই জেলাকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলী দেখতে আসা দেশি বিদেশি গবেষক ও পর্যটকদের জন্য বাগেরহাট যেন এক জীবন্ত জাদুঘর।
বাগেরহাটের শিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণদের জন্য পর্যটন খাত হতে পারে বেকারত্ব দূরীকরণের প্রধান হাতিয়ার। প্রচলিত চাকরির পেছনে না ছুটে পর্যটনকে কেন্দ্র করে তারা স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে। বিদেশি পর্যটকদের আগমনের ফলে দক্ষ ট্যুর গাইড এবং বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী দোভাষীদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় তরুণরা বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এই পেশায় যুক্ত হয়ে সম্মানজনক আয়ের পথ খুঁজে নিতে পারে। পাশাপাশি মানসম্মত হোটেল ও রিসোর্ট পরিচালনায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা থাকায় হসপিটালিটি সেক্টরেও কাজের বড় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
বর্তমান যুগের তরুণরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাগেরহাটের সৌন্দর্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে তারা পর্যটন প্রচারণার মাধ্যমে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি জেলার ব্রান্ডিংয়েও ভূমিকা রাখছে। এছাড়া বাগেরহাটের নারিকেল ও শীতল পাটির মতো স্থানীয় হস্তশিল্পকে ই কমার্সের মাধ্যমে দেশ বিদেশে ছড়িয়ে দিয়ে তরুণরা সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
সম্ভাবনার পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পর্যটন এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার মতো কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে স্থানীয় তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা গেলে বাগেরহাট একটি টেকসই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হবে। বাগেরহাটের প্রতিটি ইট আর বনের প্রতিটি লতা পাতায় লুকিয়ে আছে সমৃদ্ধির বীজ। সরকার যদি পর্যটন শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেয় এবং তরুণদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে তবে এই জেলা বিশ্বের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আর এই সোনালী যাত্রায় মূল চালিকাশক্তি হবে আমাদের আজকের মেধাবী তরুণ প্রজন্ম।
লেখক: জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।