একের পর এক দুর্ঘটনায় রাজধানীজুড়ে মারাত্মক গ্যাস সঙ্কট
নিজস্ব প্রতিবেদক।। তুরাগ নদীর তলদেশে গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ঢাকার মিরপুর রোডে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাল্ভ বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীতে গ্যাস সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ শনিবার (১০ জানুয়ারি) জানিয়েছে, মিরপুর রোডে সাবেক গণভবনের সামনে বিতরণ লাইনের ৪ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাল্ভ বিস্ফোরিত হয়ে ছিদ্র সৃষ্টি হয়। মেরামত ও ভাল্ভ পরিবর্তনের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের একাধিক ভাল্ভ বন্ধ করে গ্যাসের চাপ সীমিত করা হয়েছে।
এ কারণে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউ মার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। বিস্ফোরিত ভাল্ভটি বদলের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে তিতাস।
এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিতাস গ্যাস জানিয়েছিল, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদীর তলদেশে ট্রলারের নোঙরের আঘাতে একটি গ্যাস পাইপলাইনে ছিদ্র হয়। পরে পাইপলাইনটি মেরামত করা হলেও মেরামতের সময় পাইপের ভেতরে পানি প্রবেশ করে।
পাইপলাইনের ভেতরে প্রবেশ করা পানি পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব না হওয়ায় ঢাকা মহানগরীতে এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ অব্যাহত রয়েছে। তিতাস জানিয়েছে, এই পানি পরিষ্কার করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে গেল দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সঙ্কটও চলছে। আমিনবাজারের পাইপলাইন দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে কম চাপে গ্যাস পাচ্ছেন।
শুক্রবার কিছু এলাকায় সামান্য চাপ বাড়লেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এর মধ্যেই শনিবার নতুন করে মিরপুর রোডের দুর্ঘটনায় গ্যাসের চাপ আরও কমে যায়।
গত রোববারের পর থেকে টানা গ্যাসের স্বল্পচাপে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় চুলা একেবারেই জ্বালানো যাচ্ছে না, আবার কোথাও গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য সামান্য চাপ পাওয়া যাচ্ছে।
এর প্রভাব পড়েছে হোটেল–রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ক্ষুদ্র খাবারের দোকানগুলোতেও। রান্নার কাজ কার্যত ব্যাহত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানে।
বাসাবাড়িতে রান্নার বিকল্প হিসেবে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন, আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে নিচ্ছেন।
সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।











