ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৬ - ৯:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ঈদগাঁওতে যোগদান করলেন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৮ কর্মকর্তা

  • আপডেট: Friday, February 20, 2026 - 7:26 pm

ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি।
৪৮তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত আটজন চিকিৎসক কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তারা ঈদগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন মোর্শেদের কাছে যোগদানপত্র জমা দেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে সাতজন সহকারী সার্জন এবং একজন সহকারী ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন। এদের মধ্যে ডা. উম্মে হাবিবা ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন ডা. আসফি জাহান তিশা। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নবযোগদানকৃতদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
যোগদানকারী অন্য চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন ডা. আরিফ উল্লাহ, ডা. মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন, ডা. দেব জ্যোতি বিশ্বাস, ডা. জাওয়াদ সিরাজ তাজিন, ডা. রওশন জাহান ও ডা. আসিফ আহমেদ চৌধুরী। এ সময় হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন চিকিৎসকরা যোগদান করায় ঈদগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. আবু সাদেক জানান, বর্তমানে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে রোগী দেখা হয়। তবে সেখানে রোগী ভর্তির কোনো ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে যে ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সেটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের নির্মিত তিনতলা ভবন। ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুই-তিনটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভবনেই কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, ঈদগাঁও উপজেলায় দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এর একটি জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং অপরটি ইসলামাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। তবে এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম স্বাস্থ্য বিভাগ তদারকি করছে। নবগঠিত উপজেলা হওয়ায় ঈদগাঁওয়ে এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। যদিও এক বছরেরও বেশি সময় আগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার ডা. রওশন জাহান, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. আবু সাদেক, মিডওয়াইফ প্রিয়াংকা সহ আরও কয়েকজন কর্মরত আছেন। প্রিয়াংকা প্রসূতি সেবা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এছাড়া উপজেলার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মিলিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মরত রয়েছেন।
সম্প্রতি আরএমও সুপ্রিয়া দাশ বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন ডা. রোকসানা আফাজ ও ডা. আরিফুল ইসলাম। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নাসরিন আক্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে একদিন এখানে অফিস করেন।
সচেতন মহলের মতে, উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ওষুধ সরবরাহ ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবস্থা জোরদার না করে শুধু নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে। তারা মনে করেন, নবযোগদানকারী চিকিৎসকদের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে পাঠানো হলে প্রান্তিক জনগণ সহজে চিকিৎসাসেবা পাবে।
জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস হিসেবে ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনই ব্যবহৃত হচ্ছে। এক বছরেরও বেশি সময় আগে নবসৃষ্ট ঈদগাঁও উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি নিয়মিত অফিস করেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।