ঢাকা | জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ - ১২:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ইরানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিবাদকারী এরফান সুলতানির ফাঁসি স্থগিত

  • আপডেট: Thursday, January 15, 2026 - 10:50 am

ডেস্ক রিপোর্ট।। ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রতিবাদকারী এরফান সুলতানির ফাঁসির সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি, যিনি কারাজ শহরে একটি পোশাক দোকানে কাজ করতেন। গত বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর গ্রেপ্তার হন। তার ফাঁসি বুধবার বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল।

গ্রেপ্তারের পর থেকে তার পরিবারের কাছে তার শারীরিক অবস্থার সংক্ষিপ্ত খবর ছাড়া আর কিছু আসেনি। বুধবার নির্ধারিত ফাঁসির কয়েক ঘণ্টা পরে কারাগারের কর্তৃপক্ষ তাদের ফোন করে জানায় যে ফাঁসির সময় আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, তবে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

বিদেশে বসবাসরত ৪৫ বছর বয়সী তার পরিবারের সদস্য সোমায়েহ বলেন, ‘আমি গতকাল পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কারাগারে তাকে দেখতে গিয়েছিল। দুই দিন ধরে আমি একেবারেই ঘুমাতে পারিনি।’ সোমায়েহ ও অন্যান্য আত্মীয়রা ভোর পর্যন্ত অস্থির অবস্থায় অপেক্ষা করেন, কারণ ইরানে সাধারণত প্রার্থনার সময়কার আগের সময় ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সোমায়েহ আরও বলেন, ‘আমি এরফানকে চিন্তা থামাতে পারি না। অনিশ্চয়তা আমাদেরকে ভেঙে দিয়েছে। কিভাবে এমন দয়ালু একজন যুবকের ঘাড়ে দড়ি দিয়ে তাকে মৃত্যুর কাছে পাঠানোর সাহস পায়?’

সোলতানি ইরানের প্রতিবাদ আন্দোলনের মধ্যে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে আরও অনেকে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। নরওয়ের হেঙ্গাও মানবাধিকার সংস্থা জানায়, সোলতানিকে কোনো আইনজীবীর সঙ্গে দেখা বা আইনগত সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।

গত দুই সপ্তাহে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার এবং অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছেন। এই প্রতিবাদ শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর, যখন দেশটির মুদ্রার মান হঠাৎ পতন হয় এবং এরপর তা রাজনীতিক সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে।

আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানকে সোলতানি ও অন্যান্য প্রতিবাদীদের ফাঁসি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান প্রায়ই প্রতিবাদীদের কয়েক মিনিটের ট্রায়ালে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সোলতানিকে গ্রেপ্তারের মাত্র চার দিন পর মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলো ‘ন্যায়বিচারের অধিকার হরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সোলতানি গ্রেপ্তার হওয়ার আগে নিরাপত্তা সংস্থার হুমকি উপেক্ষা করে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ চালিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরিবার জানায়, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন এবং কোনো সহিংসতায় লিপ্ত হননি। তার শখ ফ্যাশন, ফিটনেস এবং তেহরানের ফুটবল ক্লাব পার্সেপোলিসের প্রতি ছিল। পরিবারের আরও জানায়, এরফান আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়, সাহসী, শান্ত এবং ভালো মানুষ। অনুগ্রহ করে বিশ্ব আমাদের সন্তানকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।’