ঢাকা | এপ্রিল ৬, ২০২৬ - ৯:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আজ থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর চালু: নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

  • আপডেট: Monday, April 6, 2026 - 8:14 pm

এম এ হাসান, টেকনাফ।।

দীর্ঘ এক বছর ধরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে টেকনাফ বন্দর। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্রিক এটি নৌ বন্দর হলেও শুরু থেকে এটি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানেই সচল রয়েছে টেকনাফ বন্দর। মিয়ানমারের (আরাকান) রাখাইন স্টেটে বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) ও মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ-সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় প্রায় গত এক বছর ধরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ফলে হাজার হাজার ডলার আটকে রয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ফরেন ডিমান্ড ড্রাফট (এফডিআর)। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রতিকার দাবি করে দ্রুত বন্দর সচল করার দাবি তুলে। এরই ধারাবাহিকতায় বন্দরটির সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি। সোমবার (৬ এপ্রিল) সড়কপথে বেলা ১১টায় তিনি স্থলবন্দরে পৌঁছান। এ সময় তিনি বন্দর এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় আজ সচল করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকলের সমন্বয়ে বন্দরটি সচল রাখা হবে। পরিদর্শন শেষে দুপুর পৌনে ২টার দিকে তিনি টেকনাফ বন্দর ত্যাগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন: নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম, কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উদ্দিনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া বিএনপি কক্সবাজার জেলা কমিটির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান ছিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কারণে গত এক বছর ধরে টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। আজ থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর আবার চালু করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে মিয়ানমারের সরকার যদি রাজি না থাকে, তাহলে বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান রয়েছে কেউ কেউ। এদিকে মন্ত্রীর সফরকালে টেকনাফ বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বন্দরের বাইরে টেকনাফ-কক্সবাজার প্রধান সড়কে টেকনাফ স্থলবন্দরের ছাপানো ব্যানারে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করে শত শত মানুষ।