ঢাকা | মে ৩১, ২০২৬ - ৬:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-জকরিয়া

  • আপডেট: Sunday, May 31, 2026 - 5:05 pm

হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমড. মোহাম্মদ জকরিয়া

তুমিইতে সেই হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা
অর্ফিয়ুসের সুরে সুর তুলেছো
কালুরঘাটের ইথারে
বাজিয়েছো বাজনা
” উই রিভোল্ট!
আই মেজর জিয়াউর রহমান,
প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড
কমান্ডার ইন চিফ অব লিবারেশন আর্মি, ডু হেয়ারবাই প্রোক্লেইমড
ইন্ডিপেন্ডেস অব বাংলাদেশ——।”

সেই আগুনের লেলিহান শিখা
বুকে নিয়ে
হয়েছো তুমি আগুনপাখি,
তা’ দিয়েছো নীড়সম
সবুজ শ্যামলিমা বাংলাকে।
আসমানের নীল সামিয়ানা
ছুঁতে চাওনি তুমি,
আগুনের পাখা না মেলেই
পোড়াতে চেয়েছো
নষ্ট-ভ্রষ্ট সব মত ও পথ।

অলীক ভাষণে,
কাউকে ভয় পেয়ে,
কাউকে ভয় দেখিয়ে,
কাউকে ঠকিয়ে,
হতে চাওনি তুমি
সস্তা জনপ্রিয়তার ফেরিওয়ালা।

কারো নির্দেশে নোয়াওনি মাথা,
কাছে গ্যাছো অবনত মস্তকে,
জনতার কাতারে।
কারো ডাকে হয়েছো বিচলিত,
জানতে চেয়েছো অকুণ্ঠচিত্তে,
কেনো ডেকেছে তোমায়?

বাংলা মায়ের ফলিত বাগানে
তস্করের মতো লুঠে নেবে
সুডৌল স্তনসম সতেজ-সুস্বাদু ফল,
তোমার সহ্যসীমার বাইরে ছিল,
তাইতো কিছুতেই সহ্য করতে পারোনি
রুখে দাঁড়ায়িছো, তেজোদৃপ্ত সাহসে।

দেখেছি তোমায় সেই উলশি-যদুনাথপুরে
কিষাণ-কিষাণীর মাথাল মাথায়,
কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে খাল কাটা বিপ্লবে।
গতরে মেখেছো মা-মাটির সোঁদা গন্ধ,
কখনো মিশেছো
লোনাগন্ধা ধীবরের সাথে,
শুনেছো তাদের মনের আকুতি,
গ্যাছো রাঙ্গাবালী, দুবলার চর,
নাজিরার টেক, খুরুস্কুল, সোনাদিয়া।

দেখেছি তোমায়-
সেই প্রাচ্য থেকে প্রতীচ্যে
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে
কাঁধে ঝুলিয়েছো
আন্তর্জাতিকতার ঝোলা।
তাইতো দেখেছি তোমায়
ওআইসি’র শান্তি মিশনের কর্ণধাররূপে
ইরান-ইরাক যুদ্ধের মধ্যস্থতায়।

সুদূর সৌদি আরবের আরাফাতের
মরুময় প্রান্তরে,
বাংলা মায়ের নিম বৃক্ষ আজ
‘সাদাকাতুল জারিয়া’ হয়ে
‘শাজারা-তুজ-জিয়া’ রূপে বুলিয়ে দিচ্ছে
ছায়াবৃক্ষের শান্ত-স্নিগ্ধ সুশীতল পরশ।

পাক-বাংলা-ভারতের ঐতিহ্যে লালিত
হরপ্পা, মোহেনজোদারো, ইলোরা, অজান্তা, নালন্দা হয়ে পাহাড়পুর, পন্ডিত বিহার, ময়নামতি, মহাস্থানগড়, ওয়ারি-বটেশ্বর, ক্যান্ডি, মালে, থিম্পু, পোখারা, কাঠমুন্ডু, হিন্দুকুশ, এভারেস্ট, হিমালয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা, বিজয়, কেওক্রাডং, চেরাপুঞ্জি, লালাখেল, জেকোকাবাদ ঘুরে থিতু হয়েছো তুমি
সার্ক’র স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে
এই প্রিয় জাহাঙ্গীর নগরে।

সেই টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া,
রূপসা থেকে পাথারিয়া,
তামাবিল থেকে সুন্দরবন,
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা,
কর্ণফুলী, ব্রম্মপুত্রের অববাহিকায়
দেখা যায় তোমায়।
আরো দেখি-
বাংলা মায়ের সবুজ গালিচায় বুনা ধানের শীষে,
তোমার মমতায় বেড়ে উঠা
কিষাণ-কিষাণীর স্বপ্নীল মনের গহীনে।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের মন্ত্রে
উজ্জীবিত হয়ে জাতিকে দিয়েছো
আলোকবর্তিকাসম পথের দিশা।
তলাবিহীন ঝুড়িকে ফিরিয়েছো
উন্নয়নের রোল মডেলে।
সবুজ বিপ্লবের ডাকে
খাদ্যে করেছো স্বয়ংসম্পূর্ণ,
তাইতো তুমি বাংলার রাখাল রাজা।

বিলাসিতা তোমার ধাঁচে ছিল না,
তাইতো কোটি জনতার হৃদমাজারে,
স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাজায়
দুনিয়া দেখেছে উৎকৃষ্ট উপমায় তোমাকে ও তোমার সেই
মহীয়সী দেশনেত্রীকে।

জনগণমনঅধিনায়ক হয়ছো বলেই
আজও তুমি অমর, অবিনশ্বর।
তোমার ঠাঁই হয়েছে
লুই কান’র স্বপ্ন পরিকল্পনায় গড়া
গণতন্ত্রের উপমা সংসদ ভবনের উত্তরায়ণে জিয়া উদ্যানের মধ্যমনিরূপে।
বক্ষে ধারণ করে আছো
গণতন্ত্রের জননী,
আমাদের মা,
আপোষহীন দেশনেত্রী,
জাতির অবিসংবাদিত অভিভাবক,
মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে।

হে হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা!
“কি যাদু করিলা,
কি মধু খাওয়াইলা” হিজবুল বাহারে,
আ হা রে!
সেই মধুভান্ড এখনো পড়ে আছে উদাম পিপীলিকার সারির মতো
এখনো লেগে আছি আমরা
তোমার ধরিয়ে দেওয়া
সেই অগ্নিমশাল হাতে,
তোমারই আত্মজ, বঙ্গসখা, দেশসখা,
নব প্রজন্মের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর,
প্রিয় তারেক রহমানের হাত ধরে,
এগিয়ে চলেছি আমরা।

ঘুমাও শান্তিতে
হে হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা,
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান
বীর উত্তম, লও লও সালাম।
যুগ যুগ জিও।