ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬ - ১০:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

হাদি হত্যা মামলায় দুই দফা রিমান্ড শেষে রুবেলের দোষ স্বীকার

  • আপডেট: Sunday, February 1, 2026 - 6:11 pm

নিজস্ব প্রতিবেদেক।। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল রুবেল আহমেদ আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

রোববার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান জানান, দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার রুবেলকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। রুবেল স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা আবেদন করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তা রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় এবং পরে আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের সময় বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

 

ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলায় হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা ও ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী নারাজি দাখিল করলে আদালত পরে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়।