ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ৮:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সেনা মোতায়েন না হলে সারাদেশে পেট্রোল পাম্প বন্ধের হুমকি

  • আপডেট: Wednesday, March 11, 2026 - 3:53 pm

বিশেষ প্রতিনিধি।। তেল সরবরাহ বৃদ্ধি ও পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত সেনাবাহিনী মোতায়েন জরুরি মনে করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। অন্যথায় সারাদেশে পেট্রোল পাম্প বন্ধ করা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটি।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করে পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং পেট্রোল পাম্পগুলো সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পুলিশ অনেক জায়গায় ঠিকভাবে সহায়তা করছে না। আমার পাম্প বন্ধ করার জন্য ৯৯৯ কল দিয়ে পুলিশে এনেছি, পুলিশ এসে ভোক্তাদের বলেছে আপনারা মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি যদি পাম্প চালু রাখে আমাদের আপত্তি নেই।

অনেক জায়গায় তেল সরবরাহ কম থাকায় পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাম্পে হামলা ও কর্মচারীদের ওপর আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। সুনামগঞ্জে এক পাম্প কর্মচারীকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনাও উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় পাম্পে দায়িত্বরত কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও শারীরিক হেনস্তার ঘটনাও ঘটছে। আমরা চরম শঙ্কার মধ্যে সময় পার করছি। অবিলম্বে পাম্পগুলোতে সেনা বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সরকার একদিকে বলছে দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে, অন্যদিকে রেশনিং করে জ্বালানি তেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।সরকার ঘোষণা দিয়ে দায় সেরেছে, সামলা দিতে হচ্ছে আমাদেক।

মনিটরিংয়ের নামে বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পাম্প মালিকদের সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। অথচ তেল সরবরাহ ও বিক্রির হিসাব সহজেই পাম্পের আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক এবং ডিসপেনসার ইউনিটের মিটার রিডিং যাচাই করে নির্ধারণ করা সম্ভব। এ ধরনের কাজ সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই করতে পারেন। অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধের দাবি জানানি তিনি।

তিনি বলেন, রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়ার নির্দেশনাও মাঠপর্যায়ে জটিলতা তৈরি করছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই করতে সময় লাগায় পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে এবং এতে অরাজক পরিস্থিতির আশঙ্কা বাড়ছে।

প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্য মোতায়েন করা, মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো বিভাজন বা আলাদা শর্ত না রাখা, বড় ও ছোট সব ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিপণন কোম্পানি থেকে তেল সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা, এজেন্সি পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে তেল সরবরাহ চালু রাখা, কোনো ফিলিং স্টেশন বা রিভার ভেসেলে অবৈধ তেল মজুত ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং তেলের ডিপোতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করা।