ঢাকা | এপ্রিল ৪, ২০২৬ - ৪:৫৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সূর্যমুখী চাষে কৃষকের মুখে হাসি

  • আপডেট: Saturday, April 4, 2026 - 12:13 pm

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি।।

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবার সূর্যমুখী চাষ যেন হয়ে উঠেছে আলোচিত সাফল্যের গল্প। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ করে আশাতীত ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রকৃত কৃষকদের উন্নত জাতের সূর্যমুখী বীজ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং জমি প্রস্তুত ভালো হওয়ায় মাঠজুড়ে এখন হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে সূর্যমুখীর বাগান।

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যের দিকে মুখ তুলে থাকা সারি সারি সূর্যমুখী ফুল যেন কৃষিজমিকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্যের উদ্যানে। চারদিকে সবুজ গাছ আর হলুদ ফুলের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে অপরূপ দৃশ্য। আকর্ষণীয় এই ফুলের মাঠ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন। অনেকে আবার ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার আওতায় পাওয়া সূর্যমুখী বীজ দিয়ে জমিতে চাষ করেছি। ফলন ভালোই হয়েছে, লাভের আশায় আছি। তবে যদি তেল নেওয়ার জন্য ভর্তুকি মূল্যে মেশিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো, আমরা আরও সুবিধা পেতাম।

আরেক কৃষক মোঃ জিলানী জানান, আগে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছি, কিন্তু সূর্যমুখী করিনি। এবার উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় শুরু করেছি। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ফুল পেকেছে, ঘরে তোলা বাকি। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করব।

বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর আলম বলেন, এবছর ১৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষাবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩ হেক্টর বেশি। উপজেলায় মোট ৬০ জন কৃষককে বীজ দিয়েছি। কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের যে চাহিদা ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্র যেমন তেল প্রসেসিং মেশিন, আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের চাহিদা মিটানোর চেষ্টা করব।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সূর্যমুখী একটি স্বল্পমেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের ফসল। তেলের জন্য এই ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে বাজারে এর দামও কৃষকের অনুকূলে থাকছে। চলতি মৌসুমে বাঘাইছড়িতে ফলন প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি কৃষক সূর্যমুখী চাষে যুক্ত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।