সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধে একত্রিত হওয়ার আহ্বান থোয়াই চিং এর
নিজস্ব প্রতিবেদক।
বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের উদ্যোগে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়ক অংসিং থোয়াই মারমা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত এ উঠান বৈঠকে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং শাক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক বলেন, “নামে শান্তি চুক্তি হলেও এই চুক্তির মূলে রয়েছে অশান্তি। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধে একত্রিত হতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে বিভেদ, সহিংসতা ও উসকানিমূলক রাজনীতি থেকে দূরে রেখে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার পথে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অংশিহ্লা মারমা, বান্দরবান জেলা সদস্য জাহানারা বেগম এবং সদস্য মো. সেলিম চৌধুরী। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সকলের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন
-
জাপানি প্রতিনিধি দলের এনএমআই পরিদর্শন: বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য নতুন চাকরির সম্ভাবনাচট্টগ্রাম ব্যুরো বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের ইঙ্গিত মিলেছে জাপানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের চট্টগ্রাম ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট (এনএমআই) পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে। গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে জাপানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল ইনস্টিটিউটটি পরিদর্শন করে বাংলাদেশি নাবিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রতিনিধি দলে জাপানের মেরিটাইম ব্যুরোর অকুপেশনাল হেলথ পলিসি ডিভিশনের ডিরেক্টর কাজুনারি ইয়োকোটা এবং একই বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তোমোআকি মুরাকামি উপস্থিত ছিলেন। তাদের এ সফরকে বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে তারা ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অবকাঠামো ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন। এ সময় বাংলাদেশি নাবিকদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণের মান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রতিনিধি দল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নাবিকরা পরিশ্রমী, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রাখেন। আলোচনায় জাপানের জাহাজ শিল্পে দক্ষ নাবিকের চাহিদা এবং সেই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকা গুরুত্ব পায়। জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষিত নাবিক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতা ও বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এনএমআই কর্তৃপক্ষ জানায়, জাপানের সঙ্গে এ ধরনের সহযোগিতা জোরদার করা গেলে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ নাবিকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সামুদ্রিক খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। ভবিষ্যতে নতুন চুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিনিময় কার্যক্রমের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। সার্বিকভাবে, জাপানের এই প্রতিনিধি দলের সফর বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এটি নাবিকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।










