ঢাকা | এপ্রিল ১২, ২০২৬ - ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

লামা শহর প্রতিরক্ষা মাতামুহুরি নদীর ভাঙন রোধে ব্লকের কাজে দুর্নীতি

  • আপডেট: Saturday, April 11, 2026 - 8:34 pm

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, লামা (বান্দরবান)।।

লামা মাতামুহুরি নদীর তীর ও শহর প্রতিরক্ষায় এক হাজার মিটার ব্লক বসানোর কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকৌশল বিভাগের কাজের তদারকি করার কথা থাকলেও অতিরিক্ত পার্সেন্টেজের বিনিময়ে তাদের সাইট মনিটরিং নেই। ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বরাদ্দে এই কাজ দুই প্যাকেজে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করছেন। শুরু থেকে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, সিমেন্ট কম দেওয়া, ময়লাযুক্ত পাথর, স্থানীয় নদীর বালু দিয়ে ব্লক তৈরির অভিযোগ করে আসছে এলাকার মানুষ। শেষ পর্যায়ে এসেও তদারকির অভাবে কাজের গুণগত মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঠিকাদারের লোকজন আড়ালে বসে থেকে শ্রমিকদের দিয়েই কাজ করানোর ফলে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, এক হাজার মিটার ব্লকের অংশে পানিতে মোট দেড় লক্ষ ব্লক ডাম্পিং করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী জানান, নদীর ঢালুর ১৮ দশমিক দুইশ’ মিটার প্লেসিংয়ের নিচে ৯.২ মিটার জিকজ্যাকের পর পানিতে এসব ব্লক ডাম্পিং করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্ট্যাক ডাম্পিংয়ে ফেলা ব্লকের পরিমাণ কত, তাও সাইটে নিয়োজিত লোকেরা জানেন না। এর মধ্য দিয়ে কাজে বিশাল দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলছে।

ডাম্পিংয়ের ব্লক কাউন্টিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে দেখা যায়নি। ঢালুর উপরে ১ মিটার গাইড ওয়াল হবে, যা এখনো শুরু হয়নি। নদীতে সংযোগ ঝিরির মুখে ১০ মিটার পর্যন্ত ব্লক ও প্লেসিংয়ের কাজ করার কথা। ব্লকের নিচে জিওরোল বিছিয়ে কংক্রিট দিয়ে তার ওপর ব্লক বসানো হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কংক্রিটের পুরুত্ব এক ইঞ্চিরও কম। তবে কংক্রিটের পুরুত্ব কত হবে, সেটিও জানাতে পারেননি নিয়োজিত কাজের লোকেরা। ১০ এপ্রিল আনিস নামের একজন ম্যানেজারের কাছে তার মুঠোফোনে জানতে চাইলে সেও এই কাজের কোনো ধারণা নেই বলে জানান।

গত কয়েক সপ্তাহ আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসিবুল এন্টারপ্রাইজের এক ভদ্রলোক জানিয়েছিলেন, তারা স্থানীয় কিছু লোকের মাধ্যমে উচ্চ দরে লোকাল বালু কিনে ব্লকের কাজ করাতে বাধ্য হয়েছেন। কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে কাজ করাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্র আরও জানায়, জুন ২০২৬-এর মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা, তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ করা হবে।

এ ব্যাপারে একাধিকবার চেষ্টা করেও বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর দাবি করেছেন স্থানীয়রা।