ঢাকা | মার্চ ২৯, ২০২৬ - ১১:৩৩ অপরাহ্ন

লামা পৌর শহরে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ

  • আপডেট: Sunday, March 29, 2026 - 7:03 pm

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা পৌর শহরে গরুর মাংস বিক্রি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধি না করা হলে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, শনিবার দুপুরে লামা বাজারে মাংস ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে পৌর শহরে গরুর মাংস বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর আগে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন কর্তৃপক্ষ গরুর মাংসের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। নির্ধারিত মূল্যে ২০ শতাংশ হাড়সহ প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং হাড়বিহীন প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এই দামে মাংস বিক্রি করলে তাদের লোকসান গুনতে হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, “বর্তমান বাজারদরে গরু ক্রয় করে নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি করলে প্রতি গরুতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে বিক্রি বন্ধ রেখেছি।”
তারা আরও বলেন, লামা উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো গরুর খামার না থাকায় দূরবর্তী দুর্গম এলাকা—থানচি ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে ঝুঁকি নিয়ে গরু কিনে আনতে হয়। পরিবহন ব্যয়, গোখাদ্যের উচ্চমূল্য এবং চারণভূমির সংকটের কারণে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে বিপুল সংখ্যক গরু উপজেলার বাইরে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সংকটও তৈরি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, কেজিপ্রতি অন্তত ৫০ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করে নতুন করে দাম নির্ধারণ না করা পর্যন্ত তারা মাংস বিক্রি বন্ধ রাখবেন।
এদিকে, পূর্বে গরুর মাংসের মূল্য ইচ্ছামতো বাড়ানোর অভিযোগে প্রশাসন ভোক্তা অধিকার আইনে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করে। এর পরই বাজার নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত মূল্য বেঁধে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বলেন, “গরুর মাংসের যৌক্তিক মূল্য পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে আপাতত নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না।”
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “সারা দেশের বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই।”
উল্লেখ্য, লামা পৌর শহরে অনুমোদিত গরুর মাংস বিক্রেতার সংখ্যা মাত্র চারজন হলেও বিক্ষিপ্তভাবে আরও প্রায় ২০ জন এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা লোকসানের কারণে তাদের অনেকের ওপর ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে।