ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬ - ১:৩৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

লামায় ব্লক নির্মাণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • আপডেট: Monday, February 23, 2026 - 7:48 pm

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।
লামায় নদীর ব্লক নির্মাতা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। লামা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড চাম্পাতলী সড়কে ধুলাবালি জনজীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। মাতামুহুরি নদী ভাঙনরোধ ব্লক নির্মাণ কাজের খোয়া, বালু ও নির্মিত ব্লক পরিবহনের ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমের কারণে তীব্র হয়েছে এই ধূলিদূষণ। এতে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং চোখের সমস্যা সৃষ্টি করছে, ফলে ঘর ও বাইরে চলাচলসহ বসবাস করা কষ্টকর হচ্ছে।
ঠিকাদারী কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পানি ছিটানোর নিয়ম থাকলেও তারা তা করছেন না। নির্মাণাধীন স্থানে বেষ্টনী না দিয়ে কাজ করানোর কারণে এই দুর্ভোগ আরও চরমে উঠেছে।
চাম্পাতলী গ্রামবাসীরা এর প্রতিকার চেয়ে সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে প্রকাশ, বিগত প্রায় তিন মাস আগে চাম্পাতলী গ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশের মালিকানাধীন মাঠে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার ব্লক তৈরির কাজ শুরু করে।
উল্লেখ্য, পুলিশ বিভাগ মাঠটি সবজি ক্ষেতের জন্য ইজারা দিলেও ইজারাদার সেটি কংক্রিটের ব্লক নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে ভাড়া দেয়। ঠিকাদার সেখানে ব্লক নির্মাণের জন্য ১০ চাকার ট্রাক-লরি যোগে কংক্রিট ও বালি পরিবহন শুরু করে।
এছাড়াও নির্মিত ব্লকসমূহ ট্রলি-ট্রাক্টর যোগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকায় পরিবহন করছে। এর ফলে পরিচ্ছন্ন ও কোলাহলমুক্ত এলাকাটি উচ্চমাত্রার যান্ত্রিক শব্দ ও ধুলাবালির রাজ্যে পরিণত হয়েছে। রাতদিন বিরামহীন গাড়ি চলাচলের কারণে এলাকার বায়ু ও শব্দদূষণ ইতোমধ্যে অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে।
মাত্রাতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও শিশুদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ও চলাচলে ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে চাম্পাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুরা। ধুলাবালির কারণে রাস্তার পার্শ্বে বসবাসকারীদের সারাদিন ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়, যার ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
লামা পৌরসভা কর্তৃক সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) টনের গাড়ি চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত অত্র এলাকার যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি দিয়ে ১০ চাকার ট্রাকে চল্লিশ টনের অধিক মালামাল পরিবহন করানোর ফলে চাম্পাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি ভেঙে এবং দুই পাশ দেবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আসন্ন বর্ষায় সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে জনচলাচলের জন্য পুরো রাস্তা আর ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিগত নভেম্বর মাসে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করা হলেও তারা কর্ণপাত করেননি। এ বিষয়ে জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলীকে মুঠোফোনে কল করা হয়, তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী জানান, তাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে পানি ছিটিয়ে জনদুর্ভোগ লাগবে—এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং সেটি করা হবে।