ঢাকা | এপ্রিল ৬, ২০২৬ - ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

লংগদুতে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

  • আপডেট: Sunday, April 5, 2026 - 4:18 pm

গোলামুর রহমান, লংগদু (রাঙ্গামাটি)।।

রাঙ্গামাটির লংগদুতে তিন দিনের নবজাতককে অক্সিজেন সাপোর্ট না দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লংগদু সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রত্ন বিকাশ চাকমার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ নবজাতকের পরিবারের।

নবজাতকের বাবা আরিফুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা তিনটায় লংগদু উপজেলার ভাসান্যদম ইউনিয়নের ঘনমোড় শীলকাটা ছড়া এলাকা থেকে তিন দিনের নবজাতকের অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবার। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থার অবনতি দেখলে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রেফার করেন। রেফার করার পর অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়েই শুরু হয় গড়িমসি। সরকার নির্ধারিত ভাড়া ১৪০০ টাকা হলেও দুই হাজার টাকার দাবি করেন ড্রাইভার রত্ন বিকাশ চাকমা। গরিব অসহায় বাবা ১৫০০ টাকা দিতে রাজি হন। তখন থেকে পথিমধ্যে তাদের সঙ্গে নানা ধরনের খারাপ আচরণ করা হয়। ভাঙা রাস্তা দেখে গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেওয়া হয়, আর ভালো রাস্তায় এলে গাড়ির স্পিড কমিয়ে দেওয়া হয়। এসব জানতে চাইলে ড্রাইভার আরও বেশি খারাপ আচরণ করেন।

নবজাতকের বাবা আরও জানান, যখন খাগড়াছড়ি পৌঁছাই তখন একটি প্রাইভেট হাসপাতালের পাশে গাড়ি থামিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাচ্চার মুখ থেকে অক্সিজেন খুলে ফেলেন। আমরা কোথায় যাব, কী করব ভাবতে না ভাবতেই আমার শিশুটি অক্সিজেনের অভাবে গাড়িতেই ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে মারা যায়। পরবর্তীতে ড্রাইভার ১৫০০ টাকা ভাড়া নিয়ে আমার সন্তানকে আমার কাছে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যান।

পরে আমরা মাহিন্দ্রা দিয়ে আবার লংগদুতে ফিরে আসি। এমতাবস্থায় আমি আমার শিশু সন্তানের হত্যার বিচার চাই। আমার সঙ্গে যে অন্যায় করা হয়েছে, তা আর কারও সঙ্গে যেন না হয়। দ্রুত ড্রাইভারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ড্রাইভার রত্ন বিকাশ চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নবজাতকের মা নিজেই অক্সিজেন খুলে ফেলেন। তবে তিনি বকশিস হিসেবে কিছু বাড়তি টাকার দাবি করেছেন বলে স্বীকার করেন। এছাড়া খারাপ আচরণসহ অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে লংগদু সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত জাহান নওরীন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাঙ্গামাটিতে প্রশিক্ষণে আছেন। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনাটি শুনেছি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিন্নাত আলমের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি রাঙ্গামাটি থেকে আসলে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।