রাজস্থলীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
মোঃ সুমন খান, রাজস্থলী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের (ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা) জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজস্থলী উপজেলার তাইতংপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মশালায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, আইনগত দায়িত্ব ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক মিসেস নাজমা আশরাফী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও ডিএসবি) জনাব মোঃ জসিম উদ্দিন চৌধুরী, পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) জনাব মোঃ আলমগীর হোসেন এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জনাব মোঃ শফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিসেস নাজমা আশরাফী বলেন,
“একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাই প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভোটারদের আস্থা অর্জনই একটি সফল নির্বাচনের প্রধান চাবিকাঠি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন চৌধুরী, পিপিএম বলেন,
“নির্বাচনকালীন সময়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে। তবে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নির্বাচনকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করবে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আলমগীর হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“প্রশিক্ষণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দায়িত্ব পালনের পূর্বশর্ত। নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।”
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর রহমান বলেন,
“ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালট ব্যবস্থাপনা, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রেরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।”
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মোট ১৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৯৭ জন পোলিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় নির্বাচন আচরণবিধি, ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, ভোটার সহায়তা ও অনিয়ম প্রতিরোধ বিষয়ে হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই প্রশিক্ষণ তাদের দায়িত্ব পালনে আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়াবে এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে।











