ঢাকা | মার্চ ৪, ২০২৬ - ১১:৪২ অপরাহ্ন

মিরসরাইয়ে তেল চুরি বন্ধে এমপি নুরুল আমিনের সতর্ক বার্তা

  • আপডেট: Wednesday, March 4, 2026 - 7:44 pm

 

মিরসরাই প্রতিনিধি।।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মস্তান নগর রেল স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেলের তেল চুরির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আমিনুল হক সওদাগর। তাকে টেলিফোনে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। ফোনালাপের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মস্তান নগর রেল স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রেলের তেল চুরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত আমিনুল হক সওদাগরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গঠন করে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ভোর ও সন্ধ্যায় বিভিন্ন কৌশলে রেললাইন ও সংলগ্ন এলাকা থেকে তেল চুরি করা হয়। তবে এতদিন পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য নুরুল আমিন নিজ পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তকে বলেন, “আমি নুরুল আমিন এমপি বলছি। আপনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারকে ম্যানেজ করে রেলের তেল চুরি করে যাচ্ছেন। অনেক হয়েছে, আর নয়। আজ থেকে তেল চুরি বন্ধ করবেন। পরবর্তীতে এমন অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জবাবে আমিনুল হক সওদাগর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি তেল চুরির সঙ্গে জড়িত নন এবং কে তেল নামায় তা তিনি জানেন না। এ সময় এমপি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি দীর্ঘদিন এ কাজে জড়িত। আপনাকে ধরলে তখন তথ্য দেবেন কারা জড়িত।” এরপর ফোনালাপ শেষ হয়।
এ ঘটনার পর সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মিরসরাইয়ের পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের অবৈধ তেল চুরি বা পাচার সহ্য করা হবে না। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, আমিনুল হক সওদাগর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশ সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নতুন নয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি মিরসরাইয়ের হাদি ফকিরহাট এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তেল পরিবহনের পাইপলাইন ফুটো করে মাটি খুঁড়ে তেল চুরির একটি ঘটনা ধরা পড়ে। পুলিশ ও বিপিসি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ছোট কমলদহ বাজার, বারইয়ারহাট পৌরসভা, বড়তাকিয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক, কন্টেইনার ও লরি থেকে তেল চুরি ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধুমাত্র সতর্কবার্তা নয়, বরং নিয়মিত অভিযান, নজরদারি বৃদ্ধি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই পারে এ অবৈধ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে।