ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬ - ৪:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত সেই হুজাইফা মারা গেছে

  • আপডেট: Saturday, February 7, 2026 - 12:26 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।। মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) আর বেঁচে নেই।

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি সকালে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় হুজাইফা। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকেরা তখন জানান, গুলিটি তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় জানান, শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকি থাকায় মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। মস্তিষ্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

 

 

হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ জানান, ১০ জানুয়ারি রাতে সীমান্তের ওপারে টানা গোলাগুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হওয়ায় শিশুটি খেলতে বাইরে বের হয়। এ সময় আবারও গোলাগুলি শুরু হলে একটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে। মংডু টাউনশিপসহ আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানের ওপর জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে।

টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গোলার শব্দে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। ছোড়া গুলি এসে পড়ছে বসতঘর, চিংড়ি ঘের ও নাফ নদীতে। হুজাইফার মৃত্যুতে সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।