ঢাকা | এপ্রিল ১২, ২০২৬ - ৭:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মারা গেলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে

  • আপডেট: Sunday, April 12, 2026 - 2:37 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। ভারতীয় সংগীতজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। এর আগে হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৩৩ সালে সংগীতপ্রেমী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ৯ বছর বয়সেই পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেন তিনি। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের পাশাপাশি নিজস্ব স্বতন্ত্র গায়কী দিয়ে কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন।

শুরুতে চটুল বা ক্যাবারে ধাঁচের গানের জন্য পরিচিত হলেও পরবর্তীতে উমরাও জানের গজল গেয়ে তিনি নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার এবং দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ ও ইজাজতের ‘মেরা কুছ সামান’ গানের জন্য তিনি জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করেন।

২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে আধুনিক সংগীত প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, তিনি বর্তমান সময়ের গান খুব একটা শোনেন না; বরং ধ্রুপদী সংগীত ও ভীমসেন যোশীর গান শুনতে পছন্দ করেন। তবে রাহাত ফতেহ আলী খান ও সুনিধি চৌহানের কিছু গান তার ভালো লাগত।

ব্যক্তিগত জীবনেও নানা চড়াই-উতরাই ছিল তার। ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের সচিব গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করলেও পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন।

জীবনের শেষ সময়ে নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন তার সঙ্গী। তার মৃত্যুতে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।