মাদরাসার জাল সনদধারী শিক্ষকরা সব ওলামা লীগের, দাবি জামায়াত এমপির
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় ১১৪ জন মাদরাসা শিক্ষকের এমপিও সুবিধা বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বরখাস্তের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া সব টাকা ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলাও হবে।
এদিক, জাল সনদধারী মাদরাসা শিক্ষকদের অধিকাংশই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার। এক উপজেলাতেই ৬০ জন জাল শিক্ষক চিহ্নিত হয়েছেন। এ শিক্ষকরা ওলামা লীগের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন গাজীপুর-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন আইউবী।
ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের নেতা সালাহউদ্দিন আইউবী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাল সনদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি কাপাসিয়ায়। তারা ওলামা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ কারণেই কাপাসিয়ায় জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। কাপাসিয়ার আশপাশের অন্য জেলারও বেশ কয়েকজন জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত হয়েছেন। মূলত ওলামা লীগ চক্র এ জাল সনদে চাকরি বাগিয়ে নিয়েছিল।’
গত ২৩ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে উপসচিব আব্দুল হান্নানের সই করা এক অফিস আদেশে ১১৪ জাল সনদধারী শিক্ষকের এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রোববার (২৪ মে) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ আদেশ প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী- এমপিও বাতিল হওয়া মাদরাসা শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬০ জন গাজীপুর জেলার। এছাড়া নরসিংদী জেলার ৩৯ জন ও অন্যান্য জেলার ১৫ জন।
আদেশে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক যাচাইয়ে ১১৪ জন শিক্ষকের সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬-এর ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের এমপিও বাতিল এবং সরকারি অর্থ ফেরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলো। অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।











