ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৬ - ৫:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ভোটের টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল, বাড়তি ভাড়া নেয়াসহ তীব্র যানযট 

  • আপডেট: Tuesday, February 10, 2026 - 12:18 pm

অনলাইন ডেস্ক।। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটাররা।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া শিল্পাঞ্চলের ছুটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বাস সংকটের সুযোগে কয়েকগুন বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

এদিকে, ভোর থেকেই কমলাপুর স্টেশনে দেখা যায় যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। ট্রেন ধরতে আসা মানুষজনের চোখেমুখে ছিল আনন্দ ও প্রত্যাশার ছাপ। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা আর হই-হুল্লোড় করে বাড়ি ফিরছেন তারা। অনেকের কাছে এই যাত্রা যেন ঈদে বাড়ি ফেরার মতো।

বাসের টিকিট না পাওয়ায় অধিকাংশ যাত্রী ট্রেন যাত্রা বেছে নিয়েছেন। তবে ট্রেনে আসন সংকট থাকায় অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে কিংবা ছাদে উঠে গন্তব্যে রওয়ানা হচ্ছেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বাসে যাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে যেখানে সাধারণত বাস ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাকেও উঠছেন। ট্রাকে জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

আলমগীর হোসেন নামের ময়মনসিংহগামী এক যাত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে সাধারণত ২৫০ টাকা ভাড়া লাগে। সকালে বাসে উঠতে গিয়ে ৬০০ টাকা চাইল। বাধ্য হয়ে দিতে হয়েছে। এত ভোগান্তি আগের ঈদেও দেখিনি।’

রাবেয়া খাতুন নামের এক গার্মেন্টসকর্মী বলেন, ‘ভোটের জন্য ছুটি দিয়েছে, কিন্তু বাসই তো পাচ্ছি না। সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হচ্ছে ট্রাকে উঠতে হবে। সেখানেও ৪০০ টাকা নিচ্ছে। বাস কম, যাত্রী বেশি। এই সুযোগে সবাই ভাড়া বাড়াচ্ছে।’

রেল স্টেশনে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি ট্রেন আসন পূর্ণ থাকার পরও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে। অনেকে ভেতরে জায়গা না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠছেন। এতে ঝুঁকি থাকলেও ভোটের টানে বাড়ি ফেরার আগ্রহই বেশি বলে জানান যাত্রীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা যাত্রীদের ছাদে উঠতে নিষেধ করছি। কিন্তু অতিরিক্ত চাপের কারণে সবাইকে নামানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই ভোটের কথা বলে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় আমাদেরও কিছুটা ছাড় দিতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ভোট দিতে যাচ্ছেন আরিফা দম্পতি। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তাদের একটি ফার্মেসি রয়েছে। আরিফা বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হচ্ছে। দোকানের বেচাকেনাও কম, তাই গ্রামে যাচ্ছি। এবার প্রথমবার ভোট দেব, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কমলাপুরে এসে দেখি আমার মতো শত শত মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছে, ঈদের মতো লাগছে।’

কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন শহিদুল ইসলাম ও তার তিন বন্ধু। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। আমরা সবাই প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছি। তরুণ প্রজন্মের জন্য এটা বড় সুযোগ।’

রেলওয়ে সূত্র জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুন বেড়েছে। অতিরিক্ত কোচ সংযোজন ও বিশেষ ব্যবস্থার চেষ্টা করা হলেও ভিড় সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ভোটের টানে গ্রামে ফেরা মানুষের ঢল রাজধানীতে তৈরি করেছে এক ভিন্ন আবহ। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ ও উৎসাহে মুখর হয়ে উঠেছে কমলাপুরসহ দেশের বিভিন্ন টার্মিনাল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকার সাধারণ ও বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। সরকার ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নির্বাচন দিবস ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষিত ছিল।

এছাড়া, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।