ঢাকা | মার্চ ১৩, ২০২৬ - ৪:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাজারে বাড়তি মাছ-মাংসের দাম, কিছুটা স্বস্তি সবজিতে 

  • আপডেট: Friday, March 13, 2026 - 12:36 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।। পবিত্র রমজান মাসের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। আর সপ্তাহখানেক পরেই ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে আবারও বাড়তির দিকে মাছ, মাংস ও মুরগির দাম। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সবজির বাজারে, যেখানে কিছুটা কমেছে দাম।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি, রায়েরবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। একইভাবে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৩৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ টাকা। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকা কেজি এবং দেশি মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৭০ টাকা কেজি।

মুরগির পাশাপাশি গরুর মাংসের দামও চড়া। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের বাজারেও কম দামে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৭০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি, আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত।

রায়েরবাজারে মুরগি কিনতে আসা শরীফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রয়লার কিনতে এসে দেখি কেজি ২২০ টাকা। ব্রয়লার এখন আর আমাদের মতো মানুষের নাগালে নেই; এটা যেন ধনীদের খাবার হয়ে গেছে। আর কিছু টাকা যোগ করলেই আধা কেজি গরুর মাংস নেওয়া যায়।’

মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ বলেন, ‘ঈদ সামনে থাকায় বাজারে কিছুটা চাপ আছে। তবে মাছের দাম সাধারণত ২০-৩০ টাকা ওঠানামা করে।’

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুরগির চাহিদা বাড়ছে। তবে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বাড়ছে। কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা জসিম বলেন, ‘ছোট ছোট অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগের মতো মুরগি বাজারে আসছে না। তার ওপর ঈদ সামনে থাকায় চাহিদাও বেড়েছে, ফলে দাম বাড়ছে।’

অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। চাহিদা কম থাকায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, ‘এখন বাজারে ক্রেতা কম। অনেকেই ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত, আবার অনেকে গ্রামের বাড়ি চলে যাচ্ছেন। তাই সবজির চাহিদা কমে গেছে এবং দামও কিছুটা কমেছে।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা মাছের দিকে ঝুঁকছেন। আবার অনেককে মুরগির দাম শুনেই দোকান থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।