ঢাকা | জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ - ১১:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাঘাইছড়িতে  সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারকারী চক্রের দুইটি পরিত্যক্ত আস্তানা শনাক্ত ও কাঠ উদ্ধার

  • আপডেট: Monday, January 26, 2026 - 7:04 pm

মো. গোলামুর রহমান, লংগদু (রাঙামাটি)।
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত পাহাড়ের গহিন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কাঠ পাচারকারীরা আস্তানা তৈরি করে শত শত গাছ কেটে বনাঞ্চল ধ্বংস করছে—এমন খবর বনবিভাগের মাধ্যমে জানতে পারে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ৩৭ বিজিবি রাজনগর জোন।
পরবর্তীতে গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাজনগর জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহনেওয়াজ তাসকিন, পিএসসি-এর নির্দেশনায় অত্র জোনের সহকারী পরিচালক কে এইচ এম গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে বন বিভাগের সহায়তায় বিজিবির একটি টহল দল উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
পরিচালিত অভিযানে কাঠ পাচারকারীদের ০২টি পরিত্যক্ত আস্তানা শনাক্ত করা হয় এবং বেশকিছু কর্তনকৃত সেগুন গাছ উদ্ধার করা হয়। এদিকে এই অভিযানকে ভিন্নভাবে প্রচার করে পাহাড়ি জনসাধারণের কাছে বিজিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে সশস্ত্র কাঠ পাচারকারীরা।
উক্ত অভিযানের বিষয়ে রাজনগর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল শাহনেওয়াজ তাসকিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তথাকথিত ‘হিল ভয়েস’ নামক একটি ফেসবুকভিত্তিক নিউজ চ্যানেল কর্তৃক রাজনগর বিজিবির ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে একটি অসত্য, গুজবসম্বলিত খবর এবং অসংশ্লিষ্ট ছবি ব্যবহার করে বিজিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উক্ত নিউজ চ্যানেলটি ব্যবহার করা হয়েছে।
সত্যিকার অর্থে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজনগর জোন ৩৭ বিজিবি কর্তৃক পরিচালিত চোরাচালান দমন অভিযানের অংশ হিসেবে সারোয়াতলী ইউনিয়নের কামারকছড়া নামক স্থানে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাস্তবিক অর্থে এখানে কোনো জনবসতি নেই এবং স্থানটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অংশ। উক্ত স্থানে গাছ পাচারকারী সংঘবদ্ধ চক্র কর্তৃক সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নির্বিচারে সেগুন গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিবেশ ধ্বংসের পরিকল্পনার একটি অংশ।
পরিচালিত অভিযানে বিজিবি টহল দল কর্তৃক দুইটি কাঠ চোরাকারবারীদের পরিত্যক্ত আস্তানা শনাক্ত করা হয় এবং উদ্ধারকৃত সেগুন গাছের লগসমূহ স্থানীয় বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি নির্বিচারে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসকারী কাঠ পাচারকারী সংঘবদ্ধ চক্রের উদ্দেশ্যে সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও রাজনগর জোন কর্তৃক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।