ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৬ - ৯:৩৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাংলা ভাষা দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রস্তাব 

  • আপডেট: Monday, February 2, 2026 - 5:31 pm

জাগো জনতা অনলাইন।। একুশে ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ দিবস’ স্মরণ ও এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন রেখেই দিবসটি জাতীয়ভাবে ‘বাংলা ভাষা দিবস’ হিসেবে রূপান্তর, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বাস্তবায়নের প্রস্তাব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর জমা দেয়া হয়। প্রস্তাবনামূলক চিঠি জমা দেন বাংলা ভাষা দিবসের প্রবর্তক জুলীয়াস চৌধুরী।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ও শহীদদের আত্মত্যাগ কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ভিত্তি। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অক্ষুণ্ন রেখেই ২১ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয়ভাবে ‘বাংলা ভাষা দিবস’ হিসেবে রূপান্তর, প্রবর্তন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, বর্তমানে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে আন্তর্জাতিকভাবে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হলেও দিবসটি বাংলা ভাষার জন্য নয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা এবং বহুভাষিক সমাজে পারস্পরিক সম্মান ও সচেতনতা বৃদ্ধি। এটি বাংলা ভাষা বা কোনো নির্দিষ্ট ভাষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা, কোনো রাষ্ট্রের ভাষানীতি বাস্তবায়ন মূল্যায়ন করা বা কোনো জাতির ভাষাকে বৈশ্বিক ক্ষমতাকাঠামোর অংশে রূপ দেওয়ার জন্য প্রণীত নয়। একই দিনে বৈশ্বিক ভাষা বৈচিত্র্য উদযাপনের প্রেক্ষাপটে জাতীয়ভাবে বাংলা ভাষার নিজস্ব সংকট, অবক্ষয়, সমসাময়িক প্রতিকূলতা ও করণীয় বিষয়সমূহ অনালোচিত থেকে যাচ্ছে। ফলে বাংলা ভাষা প্রশাসনিক ব্যবহার, শিক্ষা, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক পরিসরে বহুমুখী চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।

 

চিঠিতে চারটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে বাংলা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের যথাযথ ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন অপরিবর্তিত রেখে ‘শহীদ দিবস’-কে ‘বাংলা ভাষা দিবস’ হিসেবে রূপান্তর ও প্রবর্তন, দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে তালিকাভুক্ত করা, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি এবং ‘বাংলা ভাষা দিবস’-এর জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জনে উদ্যোগ গ্রহণ।

জুলীয়াস চৌধুরী বলেন, “‘বাংলা ভাষা দিবস’ কোনোভাবেই শহীদ দিবসকে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব নয়। বরং শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনার ভিত্তিতে বাংলা ভাষার সুরক্ষা, বিকাশ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আধুনিক অনুশীলনে বাংলা ভাষা ব্যবহারের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।”