ঢাকা | জুন ৩, ২০২৬ - ১:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে  ইউএনএইচসিআর ও মানবিক সহায়তা অংশীদাররা

  • আপডেট: Wednesday, June 3, 2026 - 10:54 am

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভুলে না যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও তাদের মানবিক সহায়তা অংশীদাররা।

মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভার পালে দে নাসিওঁ-এ আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচ বলেন, ‘চলতি বছর মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার ৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে।

বর্তমানে অধিকাংশ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করছে।’

ইউএনএইচসিআর জানায়, কয়েক দশক ধরে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত হয়ে আসছে। তবে সবচেয়ে বড় ঢলটি আসে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে, যখন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাংলাদেশ।

সংস্থাটি বলছে, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা অস্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকটের কারণে সীমিত সম্পদের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সেবাকে হুমকির মুখে ফেলছে। গত মাসে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানায়। যদিও চাহিদা বাড়ছে, তবু এই আবেদন গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম রাখা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের মতে, ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী কার্যক্রমে মানবিক অর্থায়ন বাংলাদেশকে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা বজায় রাখতে এবং শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করেছে।

তবে উল্লেখযোগ্য মানবিক চাহিদা রয়ে গেছে এবং অব্যাহত আন্তর্জাতিক সংহতি ছাড়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর দুর্দশা আরো বাড়বে।

সংস্থাটি আরো জানায়, মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তায় কাটছাঁটের কারণে রোহিঙ্গারা এখনো ত্রাণ সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে নারী, কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নতুন আগত ব্যক্তি বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে। ফলে উন্নত জীবনের আশায় অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে এমন যাত্রায় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সহায়তার আবেদনটি সবচেয়ে জরুরি মানবিক প্রয়োজনগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অতিজরুরি সহায়তা আবেদনে ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের ৬০ শতাংশ পাওয়া গেছে। তবে শুধু ন্যূনতম সহায়তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে শরণার্থীদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলায় আরো বেশি ব্যয় ও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, মিয়ানমারে সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে হবে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে প্রচেষ্টা চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।