ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ৬:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরাট বামুন সুন্দর খাল, বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

  • আপডেট: Sunday, March 8, 2026 - 7:25 pm

মিরসরাই প্রতিনিধি।।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কাটাছড়া ইউনিয়ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ বামুন সুন্দর খাল বর্তমানে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্যে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আশপাশের গ্রাম ও কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটিতে অবাধে প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এই খালটি মহামায়া সেচ প্রকল্প থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত। মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর, কাটাছড়া ও ইছাখালী—এই তিনটি ইউনিয়নের শত শত কৃষক বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য এই খালের ওপর নির্ভরশীল। খালের দুই পাশে মৌসুমি ফসল, শাকসবজি এবং ইরি-বোরো ধানের চাষ করে তারা স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বামুন সুন্দর এলাকায় খালের বড় একটি অংশজুড়ে প্লাস্টিকের ব্যাগ, খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, ওষুধের খালি পাতা ও নানা ধরনের বর্জ্যের স্তূপ জমে আছে। অনেক জায়গায় খালের তলদেশ পর্যন্ত ময়লা জমে গিয়ে পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই খালটি মূলত পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান পথ। কিন্তু বর্তমানে আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত নামতে পারবে না। ফলে আশপাশের গ্রাম ও কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব দাউদুল ইসলাম বলেন, “আগে বর্ষার সময় এই খাল দিয়ে দ্রুত পানি নেমে যেত। এখন ময়লা-আবর্জনায় খাল ভরে গেছে। বৃষ্টি হলে পানি নামতে পারবে না, ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশপাশের বাজার ও কিছু অসাধু ব্যক্তি খালে নিয়মিত বর্জ্য ফেলায় ধীরে ধীরে খালটি দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি খালের পাশের বাড়িঘরের আবর্জনাও সরাসরি খালে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে খালটি খনন বা পরিষ্কার না করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত খালটি পরিষ্কার ও পুনঃখননের উদ্যোগ না নেওয়া হলে বর্ষা মৌসুমে বামুন সুন্দরসহ আশপাশের এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে খালটি পরিষ্কার এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ খালে বর্জ্য ফেলতে না পারে সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর বর্তমান প্রশাসক আলাউদ্দিন কাদের বলেন, “কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ এই খালের ওপর নির্ভরশীল। আমি খালটি পরিদর্শন করে বর্ষার আগেই সংস্কার ও পরিষ্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব।”