ঢাকা | মার্চ ৪, ২০২৬ - ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ বরদাশত নয়: পরিবেশ রক্ষায় কঠোর বার্তা পার্বত্য মন্ত্রীর

  • আপডেট: Tuesday, March 3, 2026 - 8:10 pm

আহমদ বিলাল খান।।

পাহাড় কেটে কিংবা পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো রিসোর্ট বা পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেছেন, উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংসের সুযোগ আর নেই; সরকার টেকসই উন্নয়ন ও ইকো-ট্যুরিজমকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন অনুযায়ী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, যেখানে একান্ত জরুরি, সেখানেই নতুন কাজ হাতে নেওয়া হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে জেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা আবশ্যক।
উন্নয়নের নামে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে অর্থ অপচয়ের সুযোগ আর থাকবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানে প্রকল্প নেওয়া যাবে না। প্রতিটি কাজের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। জেলা পরিষদের কার্যক্রমেই জেলার উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে উল্লেখ করে তিনি সেবার নামে কোনো অনিয়ম বরদাশত না করার ঘোষণা দেন।
সভায় কর্মকর্তারা পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও দুর্গমতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা জানান, সমতলের তুলনায় পাহাড়ে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় দরপত্রের সিডিউল রেট সমতলের মতো নির্ধারণ করা যৌক্তিক নয়। পাশাপাশি কাপ্তাই লেকের মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, ইকো-ট্যুরিজম সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে বিশেষ সহযোগিতা কামনা করা হয়।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য প্রতুল চন্দ্র দেওয়ান, বরুন বিকাশ দেওয়ান, মোঃ হাবিব আজম, মিনহাজ মুরশিদ, নাইউপ্রু মারমা, সাগরিকা রোয়াজা, বৈশালী চাকমা ও দয়াল দাশ প্রমুখ।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের প্রশ্নে পার্বত্য মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান পাহাড়ি অঞ্চলে অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।