পর্যটক বাড়াতে নান্দনিক রূপে এগোচ্ছে রাঙামাটি
রাঙামাটি প্রতিনিধি।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আধুনিক ও নিরাপদ পর্যটন সুবিধার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবীব আজম।
তিনি বলেন, রাঙামাটিতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করাই মূল লক্ষ্য। পর্যটন খাত সম্প্রসারিত হলে হোটেল, হোমস্টে, স্থানীয় খাবার, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবাখাতে ব্যবসার সুযোগ আরও বাড়বে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন, যা জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
গত ১৪ মাসের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে হাবীব আজম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অদ্যাবধি গত ১৪ মাসে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রাঙামাটির পর্যটন খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ সময় পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ওয়াকওয়ে ও সিঁড়ি নির্মাণ, আধুনিক ওয়াশরুম স্থাপন এবং ফিশারি ঘাটে যাত্রী ছাউনি ও স্যানিটেশন সুবিধা সংযোজনসহ একাধিক অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ভিউ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখান থেকে কাপ্তাই লেক ও আশপাশের পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়, যা ইতোমধ্যে নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সাজেক ভ্যালিতে পার্কিং সুবিধা উন্নয়ন এবং কংলাক পাহাড়ে সিঁড়ি নির্মাণের ফলে দুর্গম পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে। ফলে পরিবার ও বয়স্ক পর্যটকরাও এখন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারছেন।
সবশেষে তিনি বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাঙামাটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে।











