ঢাকা | এপ্রিল ৯, ২০২৬ - ২:৩৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

দুই স্বর্ণকারের তর্কের জেরে অ্যাসিড নিক্ষেপ, ঝলসে গেল তিন যুবক

  • আপডেট: Thursday, April 9, 2026 - 9:51 am

নরসিংদী প্রতিনিধি।। নরসিংদীর রায়পুরায় লেনদেন নিয়ে বাগবিতণ্ডার সময় একটি স্বর্ণালংকারের দোকানের দুই কর্মচারীর নিক্ষেপ করা অ্যাসিডে ঝলসে গেছে তিন যুবকের শরীর। বুধবার বিকেলে রায়পুরা পৌরসভার হাসিমপুর মৌলভী বাজারে এ ঘটনা হয়।

 

আহতরা হলো- রায়পুরার শ্রীরামপুর এলাকার দুলাল বিশ্বাসের ছেলে দ্বীপ বিশ্বাস (১৯), শহিদুল্লার ছেলে ওবায়দুল্লাহ (১৯) ও রামনগর হাটির আলিম মিয়ার ছেলে আহমেদ সেজান (১৮)।

 

পুলিশ, আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে রায়পুরা বাজারের বিশ্বাস স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক দুলালের সঙ্গে হাশিমপুর মৌলভীবাজারের লতা স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক কেশব স্বর্ণকারের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটি, বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জেরে দুলাল স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিকের ছেলে দ্বীপ তার সহপাঠী ওবায়দুল্লাহ ও আহমেদ সেজানকে নিয়ে হাশিমপুর মৌলভীবাজারে কেশব স্বর্ণকারের দোকানে গিয়ে দোকান কর্মচারীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে ওই দোকানের কর্মচারী উদয় ও সৌরভ তিনজনকে লক্ষ্য করে স্বর্ণালংকার তৈরিতে ব্যবহৃত অ্যাসিড নিক্ষেপ করে আহত করে।

 

ঘটনার পর দোকানের শার্টারে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত দুই কর্মচারী উদয় ও সৌরভ। অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লতা স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক কেশব রায়কে আটক করেছে রায়পুরা থানার পুলিশ।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুর রহমান জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া তিনজন রোগী হাসপাতালে আসে। এরমধ্যে দ্বীপ বিশ্বাসকে গুরুতর অবস্থায় আনা হয়। তার চোখের কর্ণিয়ায় এসিড লেগে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অপর দুজনের শরীরের সামনে ও পেছনের অংশ ঝলসে যাওয়ায় সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

 

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘দুপক্ষই স্বর্ণকার। টাকা–পয়সা লেনদেনের বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর সূত্র ধরেই কেশব রায় ও তার দোকানের কর্মচারীরা তাদের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকায় তাদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী ও পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তির কথা শুনে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’