ঢাকা | মার্চ ৩০, ২০২৬ - ২:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

জোরপূর্বক বসতবাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা

  • আপডেট: Sunday, March 29, 2026 - 9:53 pm

ঈদগাঁও প্রতিনিধি, কক্সবাজার।।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জঙ্গল খুটাখালী মৌজায় বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক বসতবাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে যে কোনো সময় শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, জঙ্গল খুটাখালী মৌজার বি.এস ৬৩ ও ১৩ নম্বর খতিয়ানের সৃজিত বি.এস ১৩৪, ১৪৯ ও ১৫০ নম্বর খতিয়ানের ৪০৪ দাগের ৩ একর এবং ৫১০ দাগের ৫.৫১ একরসহ মোট ১০.৫১ একর জমির রেকর্ডীয় মালিক মৌলানা মনিরুজ্জামান গং। তারা নিয়মিত সরকারের খাজনা পরিশোধ করে আসছেন এবং মনিরুজ্জামানের ওয়ারিশদের নামে নামজারি জমাভাগ খতিয়ানও চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রয়েছে।

তবে বি.এস ৪০৪ নম্বর দাগের ৩ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে গ্রাম আদালত, স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্প এবং বিজ্ঞ আদালতে উভয় পক্ষের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। সর্বশেষ মহামান্য হাইকোর্টের এক আদেশে মনিরুজ্জামান গংদের পক্ষে রায় আসে। চকরিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের পরিমাপ ও তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ ইলিয়াস গংকে অবৈধ দখলদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মনিরুজ্জামান পক্ষের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের জমিতে কোনো বৈধ মালিকানা বা দখল নেই। তবুও তারা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কক্সবাজার আদালতে মামলা (নং-৯১২/২০১৯, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪০ ধারা) দায়ের করা হলে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে পরবর্তীতে তাদের পক্ষেই ডিগ্রি প্রদান করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৩ মার্চ জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষের ৫-৬ জন বাধা প্রদান করে এবং মারধরের চেষ্টা করে। এমনকি জমিতে গেলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধীয় জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ শুরু করে, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এতদিন প্রতিপক্ষ ওই জমির ফসলের ভাগ মনিরুজ্জামান গংদের দিয়ে আসলেও এখন হঠাৎ করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে।

ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক গ্রাম্য সালিশে ঈদগড় ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ, ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য কহিনুর আক্তার, ভোমরিয়া ঘোনা বনবিট কর্মকর্তা ফরহাদ, সার্ভেয়ার বদরু, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে করে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো যায় এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে।