ঢাকা | এপ্রিল ৮, ২০২৬ - ৬:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের মানববন্ধন

  • আপডেট: Wednesday, April 8, 2026 - 1:45 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ভোলা পৌরসভার মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদা সুমিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংগঠনটির প্রায় শতাধিক নারী কর্মী অংশ নেন।

তারা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে প্রেসক্লাবের সামনের এলাকা কিছু সময়ের জন্য সরব হয়ে ওঠে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার কেন, জবাব দে জবাব দে’, ‘রাতের আধারে গ্রেপ্তার কেন, সরকার জবাব দাও’, ‘একটি পোস্টে গ্রেপ্তার -এ কেমন গণতন্ত্র’, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের প্রাণ’, ‘ওপরের লেভেলের নির্দেশ মানি না’, ‘এখন বোনেরা হামলা-জেগে ওঠো সারা বাংলা’, ‘সাইবার বুলিং বন্ধ করতে হবে’, ‘নারী নির্যাতন বন্ধ কর’, ‘অন্যায় গ্রেপ্তার মানি না’, ‘বিবি সাওদা সুমির মুক্তি চাই’-এমন নানা স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নুরুননেসা সিদ্দিকী বলেন, দেশে তেল-গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান করতে হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

একইসঙ্গে সাইবার বুলিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আগে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের সমালোচনা করা হলেও এখন একই ধরনের স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকসহ বিরোধী মতের লোকজনকে গ্রেপ্তার করা তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যে সাইবার আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সেটি বাতিল করা হয়েছিল, এখন আবার সেই আইনের ধারা ব্যবহার করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

নুরুননেসা সিদ্দিকী বলেন, সরকার একদিকে গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোট হলে সরকারগুলো সাধারণত গণরায় মেনে চলে, কিন্তু বাংলাদেশে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বারবার সংবিধানের আশ্রয় নেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সংবিধানের চেতনা প্রতিফলিত হচ্ছে না। তাই মানবাধিকার সুরক্ষা, গণতন্ত্র শক্তিশালী করা এবং দেশের কল্যাণে সংবিধানে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে থেকেই চাঁদাবাজি, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বিশেষ করে নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।

এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র কাঠামো ও সাংবিধানিক ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।

সংগঠনটির আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবেকুন্নাহার মুন্নী বলেন, নারীদের ওপর সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। অথচ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জেরে বিবি সাওদা সুমিকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হয়েছে। নারীদের ওপর হয়রানি বন্ধ না হলে নারীরা রাজপথে নেমে আসবে এবং সে আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

একই সঙ্গে তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের দাবি জানান।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে বিবি সাওদা সুমির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সম্পাদক নাজমুন নাহার নীলুসহ আরও অনেকে।